জাফরান কত টাকা কেজি বাংলাদেশে? – ২০২৬ আপডেটেড গাইড
২০২৬ সালে বাংলাদেশে বাজারে সাধারণত গ্রেড–২ মানের জাফরানের খুচরা দাম প্রতি গ্রাম প্রায় ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। এই হিসেবে জাফরান কত টাকা কেজি দাঁড়ায় তা হিসাব করলে দেখা যায় প্রতি কেজি জাফরানের সম্ভাব্য খুচরা মূল্য প্রায় ২.৫ লক্ষ থেকে ৩.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে, মান ও উৎসভেদে এই দামের একটু এদিক–ওদিক হওয়া স্বাভাবিক।
যারা সরাসরি প্রিমিয়াম ইরানি বা কাশ্মীরি জাফরান আমদানি করেন, তাদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী জাফরান কত টাকা কেজি তা সাধারণত ৩,০০,০০০ থেকে ৫,০০,০০০ টাকার মধ্যে থাকে, যেখানে উচ্চ গ্রেডের “নেগিন” ও “সুপার নেগিন” জাফরানের জন্য বেশি দাম গুনতে হয়।
প্রতি গ্রাম ও প্রতি কেজি হিসেবে জাফরানের দাম
বাংলাদেশের নগরভিত্তিক বড় বাজার (কারওয়ান বাজার, মৌলভীবাজার, গুলশান ডিএনসিসি ইত্যাদি) ঘুরে দেখা গেছে, ২০২৫–২৬ পর্বে অধিকাংশ দোকানে প্রতি গ্রাম জাফরানের দাম ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে রাখা হচ্ছে, কিছু আউটলেটে ব্র্যান্ড, প্যাকেজিং এবং গ্রেডের কারণে দাম আরও বেশি রাখা হয়।
জাফরান কত টাকা কেজি তা বোঝার জন্য সহজ হিসাব:
- যদি প্রতি গ্রাম ২৫০ টাকা ধরা হয়, তবে ১ কেজি জাফরান কত টাকা কেজি → প্রায় ২,৫০,০০০ টাকা।
- প্রতি গ্রাম ৩০০ টাকা হলে জাফরান কত টাকা কেজি → প্রায় ৩,০০,০০০ টাকা।
- ভালো মানের বা ব্র্যান্ডেড প্যাকেটে প্রতি গ্রাম ৩৫০ টাকাও হলে জাফরান কত টাকা কেজি দাঁড়ায় → প্রায় ৩,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত।
উচ্চ মানের আমদানি করা প্রিমিয়াম ইরানি জাফরানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খুচরা হিসেবে প্রতি গ্রাম প্রায় ৩ থেকে ৪ ইউরো (প্রায় ৩৫০–৪৫০ টাকা) পর্যন্ত ধরা হয়, ফলে সেই লেভেলের প্রোডাক্ট হলে বাংলাদেশে জাফরান কত টাকা কেজি হতে পারে ৪ লক্ষ টাকার উপরে চলে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে জাফরান কত টাকা কেজি
বিশ্ববাজারে জাফরানকে “রেড গোল্ড” বলা হয়, কারণ খুব অল্প উৎপাদন ও হাতে সংগ্রহের কারণে প্রতি কেজি দামের পরিমাণ অনেক বেশি। ২০২৪–২৫ সময়কালে গ্লোবাল মার্কেটে ভালো মানের জাফরান কত টাকা কেজি ছিল তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাধারণত ৩,০০,০০০ থেকে ৫,০০,০০০ টাকার সমপরিমাণ দামে লেনদেন হয়েছে, বিশেষ করে ইরান ও স্পেনের উচ্চ গ্রেডের পণ্যের ক্ষেত্রে।
ইরানি প্রিমিয়াম জাফরানের জন্য হালনাগাদ আন্তর্জাতিক গাইড অনুযায়ী ২০২৬ সালের শুরুতে অনেক সাপ্লায়ার প্রতি গ্রাম ৩–৪ ইউরো এবং প্রতি কেজি ২,৮৫০–৩,০০০ ইউরো পর্যন্ত কোট করছে, যা বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করলে আনুমানিক ৩,০০,০০০ টাকারও বেশি। তাই গ্লোবাল স্কেলে জাফরান কত টাকা কেজি তা দেখলে বোঝা যায় যে দেশীয় বাজারে যে দাম দেখা যাচ্ছে, তা মূলত অপেক্ষাকৃত নিম্ন গ্রেড বা মিশ্র জাফরানের দাম।
গ্রেড, মান ও উৎসভেদে দামের পার্থক্য
জাফরানের দাম নির্ভর করে মূলত এর গ্রেড, উৎস এবং সংগ্রহ–প্রক্রিয়ার উপর। ইরানি জাফরানের গ্রেডিং–এ সাধারণত “অল রেড সুপার নেগিন”, “নেগিন”, “সারগোল”, “ফিলামেন্ট গ্রেড–১”, “ফিলামেন্ট গ্রেড–২” ইত্যাদি লেভেল দেখা যায়, যেখানে সুপার নেগিন সবচেয়ে উচ্চমানের।
বাংলাদেশে বাজারে যেসব জাফরান বেশি পাওয়া যায়, সেগুলোর বেশিরভাগই ফিলামেন্ট গ্রেড–২ বা তার কাছাকাছি মানের, যেখানে লাল অংশের সঙ্গে হলুদ অংশের মিশ্রণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। এই ধরনের জাফরানের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই জাফরান কত টাকা কেজি কম থাকে, যেমন প্রতি গ্রাম ২৫০–৩৫০ টাকার রেঞ্জে বিক্রি হওয়া জাফরানের কেজি-দর ২.৫–৩.৫ লক্ষ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
কিন্তু সুপার নেগিন বা অল রেড গ্রেডের ক্ষেত্রে জাফরান কত টাকা কেজি তা আন্তর্জাতিক বাজার ধরে হিসাব করলে ৪–৫ লক্ষ টাকার ওপরে চলে যায়, বিশেষ করে যদি তা প্রমাণিত অরিজিনাল ইরানি বা কাশ্মীরি হয়।
বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যায় এবং কেন দামের এত পার্থক্য?
বাংলাদেশে জাফরান প্রধানত বড় পাইকারি মসলা বাজার, কিছু সুপারশপ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিক্রি হয়। ঢাকার কারওয়ান বাজার, মৌলভীবাজার এবং গুলশান–১ ডিএনসিসি মার্কেটসহ কিছু নামকরা দোকানে জাফরান কত টাকা কেজি তা তুলনামূলক স্থিতিশীল রেঞ্জেই থাকে, তবে দোকানভেদে প্রতি গ্রামে ২০–৫০ টাকা পর্যন্ত তারতম্য দেখা যেতে পারে।
এছাড়া বিভিন্ন অনলাইন স্টোরে ছোট প্যাকেটে (১ গ্রাম/২ গ্রাম) প্রিমিয়াম বা কাশ্মীরি, ইরানি, “নেগিন” ইত্যাদি ট্যাগ ব্যবহার করে তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি করা হয়, যেখানে প্রতি গ্রাম ৬০০–৮৫০ টাকাও দেখা যায়, ফলে ওই পণ্যের ক্ষেত্রে জাফরান কত টাকা কেজি দাঁড়ায় হিসাব করলে ৬–৮ লক্ষ টাকারও বেশি হয়। তবে এগুলো সব সময়ই মূলধারার পাইকারি বাজারদরকে রিপ্রেজেন্ট করে না; বরং ব্র্যান্ড, প্যাকেজিং, আমদানির পদ্ধতি এবং রিটেইল মার্জিন এই দামের মূল কারণ।
আরও একটি কারণ হলো আমদানির ধরণ। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে জাফরানের বড় একটি অংশ এখনো আনুষ্ঠানিক আমদানির বদলে ব্যক্তিগত বা অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে আসে, ফলে কারও কারও কাছে জাফরান কত টাকা কেজি তা কম পড়ে, আবার কেউ কেউ অল্প আমদানির কারণে উচ্চ দামে বিক্রি করেন।
২০২৬ সালে কেন জাফরানের দাম উঁচু স্তরে রয়েছে?
১ গ্রাম শুকনো জাফরান সংগ্রহের জন্য গড়ে প্রায় ১,৫০,০০০ ফুল থেকে সংগ্রহ করা গর্ভমুণ্ড শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা লাগে, এবং এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হাতে করা হয়। এই অতি শ্রমঘন প্রক্রিয়া এবং সীমিত উৎপাদনের কারণেই গ্লোবাল মার্কেটে জাফরান কত টাকা কেজি সবসময় উচ্চ পর্যায়ে থাকে।
২০২৪–২৫ সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যদ্রব্য ও মসলার সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি, ইরানসহ কিছু উৎপাদনকারী দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ২০২৬ সালেও জাফরান কত টাকা কেজি তা কমার বদলে বরং স্থিতিশীল কিন্তু উচ্চ রেঞ্জেই রয়েছে। এর সাথে বাংলাদেশি টাকার মান, আমদানি শুল্ক (যদি আনুষ্ঠানিকভাবে আমদানি হয়) এবং রিটেইল মার্জিন যুক্ত হয়ে স্থানীয় বাজারে জাফরান কত টাকা কেজি তা আরও কিছুটা বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন — ৪ আনা সোনার দাম কত
সারসংক্ষেপ: ২০২৬ সালে জাফরান কত টাকা কেজি?
সংক্ষেপে বলা যায়, বাংলাদেশের সাধারণ বাজারে ২০২৬ সালে গ্রেড–২ ধরণের জাফরানের ক্ষেত্রে প্রতি গ্রাম গড়ে ২৫০–৩৫০ টাকা ধরে জাফরান কত টাকা কেজি হবে আনুমানিক ২.৫–৩.৫ লক্ষ টাকা। উন্নত গ্রেড বা ব্র্যান্ডেড আমদানি করা ইরানি/কাশ্মীরি সুপার নেগিন জাফরানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারকে ভিত্তি করে জাফরান কত টাকা কেজি ৪–৫ লক্ষ টাকার ওপরে চলে যেতে পারে, বিশেষ করে যদি খাঁটি ও প্রমাণিত অরিজিনাল পণ্য কেনা হয়।
তাই কেনার আগে দোকানদারকে জিজ্ঞেস করে নিন জাফরান কোন গ্রেডের, কোন দেশ থেকে এসেছে এবং প্রতি গ্রাম কত নিচ্ছেন, এরপর হিসাব করে নিন আপনার ক্ষেত্রে জাফরান কত টাকা কেজি পড়ছে — তাহলে মান ও দামের তুলনা করা সহজ হবে।






