তেলের দাম কত

তেলের দাম কত আজ? সর্বশেষ ভোজ্য তেলের দাম

ভোজ্য তেল আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অপরিহার্য উপাদান। সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে রাতের ডিনার পর্যন্ত প্রতিটি পদের স্বাদে তেলের উপস্থিতি অনস্বীকার্য। তবে গত কয়েক বছরে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থার নানাবিধ কারণে বাংলাদেশে ভোজ্য তেলের দাম সাধারণ মানুষের জন্য একটি চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেল এবং পাম অয়েলের দাম প্রতিনিয়ত ওঠানামা করায় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাজারের সঠিক সংবাদ রাখা অত্যন্ত জরুরি। আজকে আমরা আলোচনা করব ২০২৬ সালের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং তেলের সর্বশেষ খুচরা ও পাইকারি দাম নিয়ে।

ভোজ্য তেলের দাম মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের বুকিং রেট এবং দেশের অভ্যন্তরে ডলারের মূল্যের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশ তার চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ ভোজ্য তেল আমদানি করে থাকে। ফলে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা এবং মালয়েশিয়ার বাজারের পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের রান্নাঘরে। সরকার এবং বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সম্মিলিতভাবে সময়ে সময়ে তেলের দাম নির্ধারণ করে দেয়। তবে প্রায়শই দেখা যায় খুচরা বাজারে এই নির্ধারিত দামের চেয়ে কিছুটা বেশি মূল্যে তেল বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য অস্বস্তির কারণ।

বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য সরকার ভ্যাট বা শুল্ক হ্রাসের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন বীজের দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও পরিবহন খরচ ও ডলার সংকটের কারণে স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব খুব একটা দৃশ্যমান হচ্ছে না। বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল এবং বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্যে কিছুটা ব্যবধান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া পাম তেল বা পাম সুপার তেলের চাহিদাও বাজারে প্রচুর, কারণ এটি সয়াবিন তেলের তুলনায় কিছুটা সাশ্রয়ী।

তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে সিন্ডিকেট বা অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুদদারি অনেক সময় বড় ভূমিকা পালন করে। সরকার বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং করলেও উৎসবের সময় বা সংকটের মুহূর্তে দাম হুট করে বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। বর্তমানে বাজারে ৫ লিটার বোতলজাত তেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো সাধারণত ১ লিটারের বোতল বা খোলা তেলের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু সঠিক মানের খোলা তেল পাওয়া এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাজারের সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী আজকে ভোজ্য তেলের সম্ভাব্য মূল্যতালিকা নিচে প্রদান করা হলো। উল্লেখ্য যে, এলাকাভেদে বা দোকানভেদে এই দামে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। নিচে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের বর্তমান বাজার দরের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:

তেলের ধরণপরিমাণসর্বশেষ খুচরা মূল্য (টাকা)
বোতলজাত সয়াবিন তেল১ লিটার১৬৫ – ১৭২ টাকা
বোতলজাত সয়াবিন তেল৫ লিটার৮০০ – ৮৩০ টাকা
খোলা সয়াবিন তেল১ লিটার১৫৫ – ১৬০ টাকা
পাম সুপার তেল১ লিটার১৫০ – ১৫৫ টাকা
খোলা পাম তেল১ লিটার১৪৫ – ১৪৮ টাকা
সরিষার তেল (ঘানি ভাঙ্গা)১ লিটার২৮০ – ৩২০ টাকা
রাইস ব্রান অয়েল১ লিটার১৮৫ – ১৯৫ টাকা

সয়াবিন তেলের বর্তমান অবস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রভাব

সয়াবিন তেল বাংলাদেশের মানুষের প্রধান পছন্দের তেল। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থেকে মূলত সয়াবিন আমদানিকৃত হয়ে থাকে। বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন পরবর্তী বিশ্ব পরিস্থিতিতে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা কিছুটা পুনরুদ্ধার হলেও লজিস্টিক খরচ আগের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া এলসি (LC) খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর কড়াকড়ি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়া তেলের দামকে উর্ধ্বমুখী রেখেছে। ২০২৬ সালে এসে দেখা যাচ্ছে যে, বোতলজাত তেলের চেয়ে খোলা তেলের চাহিদাই বাজারে বেশি, কারণ দামের ব্যবধান এখন প্রতি লিটারে ১০ থেকে ১৫ টাকা। তবে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ এখন বোতলজাত ব্র্যান্ডের তেলের দিকেই বেশি ঝুঁকছে।

পাম তেলের জনপ্রিয়তা ও সাশ্রয়ী বিকল্প

যারা সয়াবিন তেলের বিকল্প হিসেবে কিছুটা কম দামে তেল খুঁজছেন, তাদের প্রথম পছন্দ হলো পাম সুপার অয়েল। এক সময় পাম তেল নিয়ে নেতিবাচক ধারণা থাকলেও বর্তমানে উন্নত মানের রিফাইনিং প্রযুক্তির কারণে পাম সুপার অয়েল বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং স্ট্রিট ফুড তৈরিতে পাম তেল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম পাম তেল উৎপাদনকারী দেশ। সেখানে যদি কোনো কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয় বা রপ্তানি নীতিতে পরিবর্তন আসে, তবে সরাসরি বাংলাদেশের বাজারে এর প্রভাব পড়ে। বর্তমানে পাম তেলের দাম সয়াবিন তেলের তুলনায় লিটার প্রতি ৫-১০ টাকা কম।

সরিষার তেলের পুনরুত্থান ও স্বাস্থ্য সচেতনতা

বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশে সরিষার তেলের ব্যবহার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষ এখন সয়াবিন তেলের ক্ষতিকর দিকগুলো বিবেচনা করে স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প হিসেবে সরিষার তেলের দিকে ফিরছে। যদিও সরিষার তেলের দাম সয়াবিন তেলের প্রায় দ্বিগুণ, তবুও পুষ্টিগুণ এবং ওষুধি গুণের কারণে এর চাহিদা ক্রমবর্ধমান। বিশেষ করে গ্রাম বাংলার ঘানি ভাঙা বিশুদ্ধ সরিষার তেলের কদর শহরেও বাড়ছে। বাজারে বিভিন্ন কোম্পানি প্যাকেটজাত সরিষার তেল বিক্রি করলেও খোলা বাজারের ঘানি ভাঙা তেলের ওপর মানুষের আস্থা এখনো অটুট।

রাইস ব্রান অয়েল এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর তেল

বাংলাদেশের ভোজ্য তেলের বাজারে রাইস ব্রান অয়েল একটি নতুন সংযোজন। ধানের কুঁড়া থেকে তৈরি এই তেল হার্টের রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে চিকিৎসকরা মনে করেন। দেশের অভ্যন্তরে রাইস ব্রান তেলের বেশ কিছু বড় কারখানা স্থাপিত হয়েছে, যা তেলের আমদানিনির্ভরতা কিছুটা হলেও কমিয়ে আনছে। এছাড়া বর্তমানে অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেল এবং সানফ্লাওয়ার অয়েলের ব্যবহার উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ধীরে ধীরে এর বাজার বিস্তৃত হচ্ছে। যদিও এগুলোর দাম সাধারণ সয়াবিন তেলের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

তেলের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার কারণসমূহ

ভোজ্য তেলের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ চিহ্নিত করা যায়: বৈশ্বিক অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ মজুদদারি এবং মুদ্রাস্ফীতি। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের বুকিং রেট বাড়লে আমদানিকারকরা সাথে সাথে দাম বাড়িয়ে দেন, কিন্তু বুকিং রেট কমলে খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়তে অনেক সময় লাগে। এর বাইরে রমজান বা অন্যান্য বড় উৎসবের আগে ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়। সরকারি মনিটরিং সেল এবং টিসিবি (TCB) এর মাধ্যমে সুলভ মূল্যে তেল বিক্রি এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সাহায্য করলেও তা চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত।

ভোক্তা অধিকার ও সরকারি পদক্ষেপ

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বর্তমানে বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন আড়ত এবং রিফাইনারিগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে যাতে কেউ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি করতে না পারে। সরকার কার্ডধারী নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে সয়াবিন তেল সরবরাহ করছে, যা নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য বড় একটি স্বস্তির জায়গা। তবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য তেলের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সরিষা বা সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন।

তেলের মান যাচাই ও সতর্কতা

বাজার থেকে তেল কেনার সময় আমাদের অবশ্যই এর মান সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে খোলা তেল কেনার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত, কারণ খোলা তেলে অনেক সময় ভেজাল মেশানোর অভিযোগ থাকে। বোতলজাত তেলের ক্ষেত্রে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ এবং বিএসটিআই (BSTI) অনুমোদিত সিল দেখে কেনা উচিত। তেলের অতিরিক্ত ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তাই চিকিৎসকরা সব সময় পরিমিত তেল ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

ভবিষ্যৎ বাজার পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয়

২০২৬ সালের বাকি সময়ে ভোজ্য তেলের দাম আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দাম এবং ডলারের স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করবে। যদি বিশ্ববাজারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে, তবে তেলের দাম বর্তমান স্তরেই থাকতে পারে বা সামান্য কমতে পারে। তবে সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের অপচয় রোধ করতে হবে এবং তেলের বিকল্প ব্যবহারের কথা ভাবতে হবে। রান্নায় তেলের পরিমাণ কমিয়ে আনা শুধু আর্থিক দিক থেকেই নয়, শারীরিক সুস্থতার জন্যও জরুরি।

উপসংহার

তেলের দাম কত

“তেলের দাম কত আজ” এটি কেবল একটি প্রশ্ন নয়, এটি সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনের একটি প্রতিচ্ছবি। তেলের দাম বাড়লে শুধু রান্নার খরচই বাড়ে না, বরং এর প্রভাব পড়ে পরিবহন থেকে শুরু করে বাইরের খাবারের দাম পর্যন্ত। সরকার, আমদানিকারক এবং খুচরা বিক্রেতা—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি স্থিতিশীল বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। সাধারণ ক্রেতা হিসেবে আমাদেরও সচেতন হতে হবে এবং বাজারের সঠিক তথ্য যাচাই করে কেনাকাটা করতে হবে।

FAQs

Q: আজকে ১ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম কত?

বর্তমানে বাজারে ১ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬৫ থেকে ১৭২ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্র্যান্ড অনুযায়ী দামের কিছুটা তারতম্য হতে পারে।

Q: ৫ লিটার সয়াবিন তেলের বর্তমান বাজার মূল্য কত?

৫ লিটারের এক বোতল সয়াবিন তেল এখন ৮০০ থেকে ৮৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

Q: সয়াবিন তেল নাকি পাম তেল, কোনটি রান্নায় ব্যবহার করা সাশ্রয়ী?

পাম তেল সয়াবিন তেলের চেয়ে লিটার প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা কম দামে পাওয়া যায়, তাই এটি ব্যবহার করা অধিক সাশ্রয়ী।

Q: সরিষার তেলের দাম এত বেশি কেন?

সরিষার উৎপাদন খরচ এবং এর বিশুদ্ধতা বজায় রাখার প্রক্রিয়ার কারণে এটি সয়াবিন তেলের চেয়ে বেশি দামি। বর্তমানে এটি ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে।

Q: সরকার কি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে কোনো ভর্তুকি দিচ্ছে?

হ্যাঁ, সরকার টিসিবির মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্য সুলভ মূল্যে তেল সরবরাহ করছে এবং তেলের ওপর আমদানিকৃত ভ্যাট কমানোর মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

Q: খোলা তেল কেনা কি নিরাপদ?

খোলা তেলে ভেজাল থাকার সম্ভাবনা থাকে এবং এটি মানসম্মত ড্রামে সংরক্ষিত না থাকলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বোতলজাত তেল কেনাই সবচেয়ে নিরাপদ।

Q: ভোজ্য তেলের দাম কেন ঘন ঘন পরিবর্তন হয়?

A: আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তন এবং পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে স্থানীয় বাজারে তেলের দাম দ্রুত পরিবর্তিত হয়।

পরিশেষ

ভোজ্য তেলের বাজার সম্পর্কে এই বিস্তারিত আলোচনা আশা করি আপনার উপকারে আসবে। নিয়মিত বাজারের সর্বশেষ আপডেট পেতে বিশ্বস্ত সংবাদ মাধ্যম বা সরকারি ওয়েবসাইটের দিকে নজর রাখুন। সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক সময় ক্রেতারা প্রতারিত হন, তাই ক্রয়ের আগে বর্তমান বাজার দর জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। সুস্থ থাকুন, পরিমিত তেল ব্যবহার করুন।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *