সুতি শাড়ির দাম – Latest Cotton Saree Price in Bangladesh | Buying Guide
বাংলাদেশের ঐতিহ্যের সাথে সুতি শাড়ির সম্পর্ক হাজার বছরের পুরনো। বাঙালি নারী আর সুতি শাড়ি যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। বিশেষ করে আমাদের দেশের গ্রীষ্মপ্রধান আবহাওয়ায় সুতি শাড়ির চেয়ে আরামদায়ক এবং স্নিগ্ধ পোশাক দ্বিতীয়টি নেই। আপনি যদি ২০২৬ সালের সর্বশেষ বাজার দর এবং একটি সঠিক বায়িং গাইড খুঁজে থাকেন, তবে এই নিবন্ধটি আপনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সমাধান হতে যাচ্ছে। এখানে আমরা আলোচনা করব কেন সুতি শাড়ি সেরা, বাংলাদেশের ৬৪ জেলার বিশেষত্ব কী এবং বর্তমান বাজারে এগুলোর দাম কেমন।
কেন সুতি শাড়ি বাঙালির প্রথম পছন্দ?
সুতি শাড়ি মানেই আরাম, সুতি শাড়ি মানেই আভিজাত্য। এটি যেমন সাধারণ ঘরোয়া পরিবেশে মানানসই, তেমনি অফিসের কর্পোরেট লুকেও এনে দেয় এক অনন্য গাম্ভীর্য। সুতি শাড়ির বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর বাতাস চলাচলের ক্ষমতা (Breathability)। এটি শরীরের ঘাম শুষে নেয় এবং ত্বককে ঠান্ডা রাখে। বাংলাদেশের টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ এবং পাবনার তাঁতিরা বংশপরম্পরায় এই শিল্পের চর্চা করে আসছেন। বর্তমানে আধুনিক মেশিনের ভিড়েও হাতে বোনা সুতি শাড়ির চাহিদা একটুও কমেনি, বরং এর আভিজাত্য আরও বেড়েছে। সুতি শাড়ির সহজ রক্ষণাবেক্ষণ এবং সাশ্রয়ী মূল্য একে সব শ্রেণীর মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। ২০২৬ সালে এসেও এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।
বাংলাদেশে সুতি শাড়ির প্রকারভেদ ও বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে বাংলাদেশে কয়েকশ ধরণের সুতি শাড়ি পাওয়া যায়। যার মধ্যে টাঙ্গাইলের তাঁত, পাবনার জ্যাকার্ড, কুমিল্লার খাদি এবং সিলেটের মণিপুরি শাড়ি উল্লেখযোগ্য। প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে এখন সুতি শাড়ির ওপর ব্লক প্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট এবং স্ক্রিন প্রিন্টের বৈচিত্র্যময় কাজ দেখা যায়। এছাড়া অর্গানিক কটন বা প্রাকৃতিক তুলা থেকে তৈরি শাড়ির চাহিদা ২০২৬ সালে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রেতারা এখন পরিবেশবান্ধব এবং আরামদায়ক পোশাকের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
সঠিক সুতি শাড়ি চেনার উপায় ও বায়িং গাইড
একটি ভালো মানের সুতি শাড়ি কেনা বেশ কৌশলের কাজ। বাজারে অনেক সময় সিন্থেটিক মিশ্রিত শাড়িকে শতভাগ সুতি বলে বিক্রি করা হয়। সুতি শাড়ি কেনার সময় নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই যাচাই করে নেবেন:
১. সুতার মান যাচাই (Thread Count): শাড়ি কেনার সময় সুতা হাত দিয়ে ধরে দেখুন। ভালো সুতি শাড়ি সবসময় নরম হবে। যদি শাড়িটি খুব বেশি খসখসে মনে হয়, তবে বুঝতে হবে এতে পলিয়েস্টারের মিশ্রণ থাকতে পারে।
২. রঙের স্থায়িত্ব চেক করুন: অনেক সময় সুতি শাড়ির প্রথম ধোয়ায় রঙ উঠে যায়। তাই পাকা রঙের শাড়ি কেনার চেষ্টা করুন। একটি ভেজা তুলা দিয়ে শাড়ির এক কোণে ঘষে রঙ উঠে কি না তা পরীক্ষা করা যেতে পারে।
৩. পাড় ও আঁচলের ফিনিশিং: তাঁতের শাড়ির ক্ষেত্রে পাড়ের ফিনিশিং চেক করুন। সুতা বের হয়ে থাকলে বা বুনন আলগা থাকলে সেই শাড়ি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আঁচলের নকশা নিখুঁত কি না তা ভালোভাবে দেখুন।
সুতি শাড়ির বর্তমান বাজার দর ২০২৬ (ব্র্যান্ড ও অফিসিয়াল স্টোর)
নিচে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন ব্র্যান্ড এবং সেগুলোর ২০২৬ সালের বর্তমান বাজার মূল্যের একটি ছক দেওয়া হলো। এই লিঙ্কগুলো ব্যবহার করে আপনি সরাসরি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে শাড়ি কিনতে পারবেন।
| শাড়ির ধরণ (Type of Saree) | আনুমানিক মূল্য ২০২৬ (Price Range) | অফিসিয়াল ওয়েবসাইট লিঙ্ক (Official Link) |
| টাঙ্গাইল হ্যান্ডলুম পিওর কটন | ১,৫০০ – ৬,০০০ টাকা | Aarong Cotton Saree |
| সাধারণ প্রিন্টেড ও ভয়েল | ৭০০ – ১,৮০০ টাকা | Daraz BD Saree |
| মণিপুরি হ্যান্ডলুম (পিওর) | ২,০০০ – ৪,৫০০ টাকা | Kay Kraft Official |
| কুমিল্লার অরিজিনাল খাদি | ২,২০০ – ৭,০০০ টাকা | Anjan’s Saree |
| ব্লক ও বাটিক সুতি | ১,২০০ – ৩,৫০০ টাকা | Kumudini Store |
| ডিজাইনার জামদানি কটন | ৪,৫০০ – ১৫,০০০+ টাকা | Le Reve Saree |
| ইন্ডিয়ান জয়পুরী সুতি | ২,০০০ – ৫,০০০ টাকা | PriyoShop |
বাংলাদেশের ৬৪ জেলার বিখ্যাত সুতি শাড়ি ও ২০২৬ সালের মূল্য তালিকা

বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার তাঁত শিল্পের নিজস্ব পরিচয় রয়েছে। নিচে ২০২৬ সালের বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী ৬৪টি জেলার বিখ্যাত শাড়ির ধরণ এবং সেগুলোর বর্তমান বাজার মূল্যের একটি বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | জেলার নাম | শাড়ির ধরণ ও বৈশিষ্ট্য | আনুমানিক মূল্য ২০২৬ |
| ১ | টাঙ্গাইল | পিওর কটন হ্যান্ডলুম তাঁত | ১,৫০০ – ৬,০০০ টাকা |
| ২ | ঢাকা | প্রিমিয়াম সুতি জামদানি | ৪,০০০ – ২০,০০০ টাকা |
| ৩ | সিরাজগঞ্জ | বেলকুচি জ্যাকার্ড সুতি | ১,২০০ – ৩,৫০০ টাকা |
| ৪ | পাবনা | ঈশ্বরদী প্রিন্টেড সুতি | ১,৩০০ – ৩,৮০০ টাকা |
| ৫ | কুমিল্লা | আদি খদ্দর বা খাদি | ১,৮০০ – ৭,০০০ টাকা |
| ৬ | সিলেট | মণিপুরি হ্যান্ডলুম (অরিজিনাল) | ২,০০০ – ৫,০০০ টাকা |
| ৭ | রাজশাহী | কটন-সিল্ক মিক্সড শাড়ি | ২,৫০০ – ৮,০০০ টাকা |
| ৮ | জামালপুর | হাতে সেলাই নকশিকাঁথা সুতি | ৩,০০০ – ১০,০০০ টাকা |
| ৯ | নরসিংদী | বাবুরহাটের পাইকারি ভয়েল | ৭০০ – ১,৮০০ টাকা |
| ১০ | কুষ্টিয়া | কুমারখালীর খাদি ও গামছা শাড়ি | ১,৪০০ – ৩,৫০০ টাকা |
| ১১ | রংপুর | শতরঞ্জি নকশা করা সুতি | ১,৮০০ – ৪,০০০ টাকা |
| ১২ | দিনাজপুর | দেশী মোটা সুতি বুনন | ১,০০০ – ২,২০০ টাকা |
| ১৩ | বগুড়া | চিকন সুতার হালকা প্রিন্ট | ৯০০ – ২,০০০ টাকা |
| ১৪ | যশোর | যশোরি স্টিচ নকশা সুতি | ২,৫০০ – ৬,০০০ টাকা |
| ১৫ | খুলনা | বাটিক ও টাই-ডাই সুতি | ১,২০০ – ৩,০০০ টাকা |
| ১৬ | বরিশাল | চেকের সুতি তাঁত শাড়ি | ১,১০০ – ২,৫০০ টাকা |
| ১৭ | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ঘন বুননের মজবুত সুতি | ১,২০০ – ২,৮০০ টাকা |
| ১৮ | নারায়ণগঞ্জ | রূপগঞ্জ ডবি সুতি | ২,৫০০ – ৭,৫০০ টাকা |
| ১৯ | গাজীপুর | কোটা স্টাইল হালকা সুতি | ১,৮০০ – ৪,৫০০ টাকা |
| ২০ | মাদারীপুর | রঙিন সুতার স্ট্রাইপ সুতি | ১,০০০ – ২,২২০ টাকা |
| ২১ | শরীয়তপুর | আধুনিক বুটিক ও ব্লক সুতি | ১,৪০০ – ৩,২০০ টাকা |
| ২২ | মানিকগঞ্জ | হাতে কাটা সুতার আদি তাঁত | ১,৫০০ – ৩,৫০০ টাকা |
| ২৩ | মুন্সিগঞ্জ | সিরাজদিখান তাঁত পল্লী সুতি | ১,১০০ – ২,৮০০ টাকা |
| ২৪ | নোয়াখালী | গান্ধী আশ্রম পিওর খদ্দর | ২,০০০ – ৫,০০০ টাকা |
| ২৫ | ফেনী | ঘরোয়া ব্যবহারের আরামদায়ক সুতি | ৯০০ – ২,২০০ টাকা |
| ২৬ | চাঁদপুর | মার্জিত সাদা ও রঙিন সুতি | ১,২০০ – ২,৫০০ টাকা |
| ২৭ | লক্ষ্মীপুর | রায়পুর মজবুত চেক তাঁত | ১,০০০ – ২,৩০০ টাকা |
| ২৮ | চট্টগ্রাম | পাহাড়ী পিনন ও থামি (সুতি) | ১,৮০০ – ৫,৫০০ টাকা |
| ২৯ | রাঙ্গামাটি | আদিবাসী কোমর তাঁতের শাড়ি | ২,২০০ – ৬,০০০ টাকা |
| ৩০ | খাগড়াছড়ি | জুম কটন ও রঙিন সুতি | ২,০০০ – ৪,৫০০ টাকা |
| ৩১ | বান্দরবান | পাহাড়ী অর্গানিক কটন শাড়ি | ২,৫০০ – ৭,০০০ টাকা |
| ৩২ | কক্সবাজার | রাখাইন ট্র্যাডিশনাল সুতি | ১,৮০০ – ৪,৫০০ টাকা |
| ৩৩ | সাতক্ষীরা | সুন্দরবন মোটিফ ব্লক প্রিন্ট | ১,২০০ – ৩,০০০ টাকা |
| ৩৪ | বাগেরহাট | ভেষজ রঙে রাঙানো সুতি | ১,৮০০ – ৩,৫০০ টাকা |
| ৩৫ | পিরোজপুর | স্বরূপকাঠি মিহি সুতি শাড়ি | ১,০০০ – ২,২০০ টাকা |
| ৩৬ | ঝালকাঠি | সাধারণ ঘরোয়া সাদা সুতি | ৮০০ – ১,৮০০ টাকা |
| ৩৭ | ভোলা | দ্বীপ অঞ্চলের তাঁত সুতি | ১,০০০ – ২,৩০০ টাকা |
| ৩৮ | বরগুনা | উপকূলীয় হালকা বুনন সুতি | ৯০০ – ২,০০০ টাকা |
| ৩৯ | পটুয়াখালী | কুয়াকাটা রাখাইন বুনন | ১,৬০০ – ৩,৫০০ টাকা |
| ৪০ | নওগাঁ | মহাদেবপুর চিকন চেক সুতি | ১,২০০ – ২,৫০০ টাকা |
| ৪১ | নাটোর | লালপুর পাতলা ভয়েল সুতি | ৯০০ – ২,০০০ টাকা |
| ৪২ | চাঁপাইনবাবগঞ্জ | তসর-কটন মিক্সড হ্যান্ডলুম | ৩,০০০ – ৬,৫০০ টাকা |
| ৪৩ | জয়পুরহাট | সাধারণ উৎসবের তাঁত শাড়ি | ৯০০ – ১,৮০০ টাকা |
| ৪৪ | গাইবান্ধা | চরাঞ্চলের তাঁতিদের সুতি | ৯০০ – ২,২০০ টাকা |
| ৪৫ | কুড়িগ্রাম | উত্তরবঙ্গীয় খদ্দর ও সুতি | ১,২০০ – ২,৫০০ টাকা |
| ৪৬ | নীলফামারী | স্নিগ্ধ রঙের উত্তরাঞ্চলীয় সুতি | ১,০০০ – ২,৪০০ টাকা |
| ৪৭ | পঞ্চগড় | হিমালয় পাদদেশের খাদি | ১,৮০০ – ৩,৫০০ টাকা |
| ৪৮ | ঠাকুরগাঁও | হাতে বোনা এমব্রয়ডারি সুতি | ১,৫০০ – ৩,২০০ টাকা |
| ৪৯ | ময়মনসিংহ | ঈশ্বরগঞ্জ গ্রামীণ তাঁত সুতি | ১,১২০ – ২,৮০০ টাকা |
| ৫০ | নেত্রকোনা | হাজং উপজাতীয় রঙিন শাড়ি | ১,৮০০ – ৩,৫০০ টাকা |
| ৫১ | শেরপুর | নালিতাবাড়ী ট্র্যাডিশনাল সুতি | ১,০০০ – ২,২০০ টাকা |
| ৫২ | কিশোরগঞ্জ | ভৈরব কটন প্রিন্ট (বাজেট) | ৮০০ – ১,৮০০ টাকা |
| ৫৩ | গোপালগঞ্জ | টুঙ্গিপাড়া বুটিক কাজ সুতি | ১,৫০০ – ৩,৫০০ টাকা |
| ৫৪ | ফরিদপুর | মধুখালী বাটিক ও ব্লক | ১,৩০০ – ৩,০০০ টাকা |
| ৫৫ | রাজবাড়ী | পাংশা নকশা তাঁত শাড়ি | ১,২০০ – ২,৮০০ টাকা |
| ৫৬ | মাগুরা | হালকা পাড়ের সুতি তাঁত | ৯০০ – ২,০০০ টাকা |
| ৫৭ | নড়াইল | লোহাগড়া মজবুত চেক তাঁত | ১,০০০ – ২,৫০০ টাকা |
| ৫৮ | মেহেরপুর | সস্তা ও টেকসই সুতি শাড়ি | ৮০০ – ১,৭০০ টাকা |
| ৫৯ | চুয়াডাঙ্গা | আলমডাঙ্গা ঘন বুনন সুতি | ১,২০০ – ২,৮০০ টাকা |
| ৬০ | ঝিনাইদহ | মহেশপুর অ্যাপ্লিক কাজ সুতি | ১,৮০০ – ৪,০০০ টাকা |
| ৬১ | হবিগঞ্জ | চা-বাগান মোটিফ সুতি | ১,৮০০ – ৩,৮০০ টাকা |
| ৬২ | মৌলভীবাজার | শ্রীমঙ্গল অরিজিনাল হ্যান্ডলুম | ২,০০০ – ৫,০০০ টাকা |
| ৬৩ | সুনামগঞ্জ | হাওর অঞ্চলীয় সাধারণ সুতি | ৯০০ – ২,০০০ টাকা |
| ৬৪ | ভোলা (তজুমদ্দিন) | উপকূলীয় মোটা সুতি শাড়ি | ১,০০০ – ২,২০০ টাকা |
সুতি শাড়ির দীর্ঘস্থায়িত্ব বজায় রাখার উপায়
দামী সুতি শাড়ি কিনে তা সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করলে দ্রুত উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। সুতি শাড়ি ধোয়ার ক্ষেত্রে রিঠা বা মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। কখনোই কড়া রোদে শাড়ি শুকাবেন না, কারণ সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি সুতার রঙ নষ্ট করে দেয়। শাড়িতে মাড় দেওয়ার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেন তা সমানভাবে লাগে। ইস্ত্রি করার সময় কাপড় সামান্য ভেজা থাকলে ফিনিশিং সবচেয়ে ভালো আসে। আলমারিতে রাখার সময় সুতি শাড়ি প্লাস্টিক ব্যাগে না রেখে সুতি কাপড়ে পেঁচিয়ে রাখলে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং কাপড় ভালো থাকে।
সুতি শাড়ির যত্ম ও রক্ষণাবেক্ষণ

সুতি শাড়ি দীর্ঘদিন নতুনের মতো রাখতে হলে এর সঠিক যত্ম প্রয়োজন।
- ধোয়া: সুতি শাড়ি সবসময় মৃদু সাবান বা শ্যাম্পু দিয়ে ধোয়া উচিত। অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত ডিটারজেন্ট শাড়ির রঙ ও তন্তু নষ্ট করে দেয়।
- রোদে শুকানো: সরাসরি কড়া রোদে শাড়ি শুকাবেন না। ছায়াযুক্ত স্থানে শুকাতে দিলে রঙ দীর্ঘস্থায়ী হয়।
- মাড় দেওয়া: শাড়ির খড়খড়ে ভাব বা স্টিফনেস ধরে রাখতে ভাতের মাড় বা রেডিমেড মাড় ব্যবহার করতে পারেন। তবে মাড় দেওয়ার পর শাড়িটি অবশ্যই ইস্ত্রি করতে হবে।
- ইস্ত্রি: সুতি শাড়ি সবসময় উল্টো পাশ থেকে ইস্ত্রি করা ভালো। এতে কাপড়ের উজ্জ্বলতা বজায় থাকে।
অনলাইনে সুতি শাড়ি কেনাকাটা
বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক বিশ্বস্ত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। Daraz Bangladesh, Aarong, এবং Anjan’s অনলাইনে তাদের বিশাল সংগ্রহ প্রদর্শন করে। তবে অনলাইনে কেনার সময় কাস্টমার রিভিউ এবং সাইজ চার্ট দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। সরাসরি তাঁতিদের থেকে কিনতে চাইলে টাঙ্গাইল বা সিরাজগঞ্জের অনলাইন শপগুলো দেখতে পারেন।
উপসংহার
সুতি শাড়ি বাঙালি সংস্কৃতির একটি জীবন্ত দলিল। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এর নকশা ও বুননে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও এর আবেদন কমেনি এক বিন্দুও। সঠিক দামে এবং সঠিক মানের শাড়ি নির্বাচন করতে পারলে এটি আপনার ওয়ার্ডরোবের সেরা সংগ্রহ হতে পারে। আশা করি আমাদের এই ‘সুতি শাড়ির দাম ও বায়িং গাইড’ আপনাকে আপনার পছন্দের শাড়িটি খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। [১], [২], [৩].
FAQs
বর্তমানে বাজারে ভালো মানের সুতি শাড়ির সর্বনিম্ন দাম কত?
বর্তমানে ৮০০ টাকা থেকে ১,২০০ টাকার মধ্যে আপনি মানসম্মত সুতি শাড়ি পেতে পারেন। তবে এক্সক্লুসিভ কাজের শাড়ির দাম ৩,০০০ টাকার ওপর হতে পারে।
সুতি শাড়ির রঙ যেন না ওঠে তার জন্য কী করা উচিত?
প্রথমবার ধোয়ার সময় হালকা লবন মেশানো পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে রঙ বসার সম্ভাবনা বাড়ে এবং উজ্জ্বলতা ঠিক থাকে।
১০০০ টাকার মধ্যে কি ভালো সুতি শাড়ি পাওয়া সম্ভব?
হ্যাঁ, ১০০০ টাকার মধ্যে চমৎকার সব ব্লক প্রিন্ট, বাটিক এবং সাধারণ তাঁতের টাঙ্গাইল শাড়ি অনায়াসেই পাওয়া যায়।
সুতি শাড়ি কি ড্রায়ারে শুকানো যায়?
সুতি শাড়ি ড্রায়ারে না শুকানোই ভালো, কারণ এতে শাড়ি কুঁচকে যায় এবং তন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রাকৃতিক বাতাসে শুকানোই সেরা।
গরমে অফিসের জন্য কোন ধরণের সুতি শাড়ি সবচেয়ে আরামদায়ক?
হালকা রঙের ৮০-১০০ থ্রেড কাউন্টের টাঙ্গাইল বা পাবনার তাঁত শাড়ি অফিসের জন্য সবচেয়ে বেশি আরামদায়ক ও ফরমাল।
আসল জামদানি সুতি শাড়ি কীভাবে চিনব?
আসল জামদানির নকশা সবসময় হাতের আঙুলে উঁচু হয়ে থাকে এবং শাড়ির উল্টো পাশে সুতার গিঁট দেখা যায়। মেশিনে তৈরি শাড়ি সমতল হয়।
অনলাইনে শাড়ি কেনার সময় প্রতারণা এড়াতে কী করণীয়?
ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা আছে এমন শপ থেকে কিনুন এবং ডেলিভারি ম্যানের সামনেই শাড়িটি চেক করে নিন। এছাড়া বিশ্বাসযোগ্য অফিসিয়াল স্টোর ব্যবহার করুন।






