জ্বালানি তেলের দাম কত

জ্বালানি তেলের দাম কত ২০২৬ – সম্পূর্ণ তথ্য এবং আপডেট

জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং জনজীবনে সবচেয়ে প্রভাবশালী বিষয়গুলোর একটি। পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন এবং কেরোসিনের দাম সরাসরি পরিবহন খরচ, পণ্যের মূল্য এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়ের উপর প্রভাব ফেলে। গাড়ির মালিক, পরিবহন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রী—সবাই জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামায় প্রভাবিত হন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) নিয়মিত আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ করে এবং সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে। আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম, ডলারের বিনিময় হার, সরকারি কর এবং ভর্তুকি—এই সবকিছু মিলে স্থানীয় জ্বালানি তেলের দাম ঠিক হয়। ২০২৬ সালে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের বর্তমান দাম কত, কীভাবে দাম নির্ধারিত হয় এবং ভবিষ্যতে কী পরিবর্তন আসতে পারে—এই সব বিষয় জানা প্রতিটি নাগরিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জ্বালানি তেলের দাম ২০২৬

২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। সরকার সর্বশেষ মূল্য সমন্বয় করেছে যা সারাদেশে কার্যকর রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (BPC) দেশের সকল পেট্রোল পাম্পে একই মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রয়ের নির্দেশনা দিয়েছে। তবে দূরবর্তী এলাকায় পরিবহন খরচের কারণে সামান্য পার্থক্য হতে পারে।

বর্তমানে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন এবং কেরোসিন—এই চার ধরনের জ্বালানি তেল বাজারে পাওয়া যায়। প্রতিটি জ্বালানির নিজস্ব ব্যবহার এবং মূল্য রয়েছে। পেট্রোল প্রধানত মোটরসাইকেল এবং ছোট গাড়িতে ব্যবহৃত হয়, ডিজেল বাস, ট্রাক এবং জেনারেটরে, অকটেন উচ্চ ক্ষমতার গাড়িতে এবং কেরোসিন গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত হয়।

Read More: এলপিজি গ্যাসের দাম কত ২০২৬ – সম্পূর্ণ তথ্য এবং আপডেট

২০২৬ সালের জ্বালানি তেলের বর্তমান মূল্য তালিকা

জ্বালানির ধরনপ্রতি লিটার মূল্যব্যবহারপূর্ববর্তী মূল্য
পেট্রোল (Petrol)১৩০ টাকামোটরসাইকেল, ছোট গাড়ি১২৫ টাকা
ডিজেল (Diesel)১১৫ টাকাবাস, ট্রাক, জেনারেটর১১০ টাকা
অকটেন (Octane)১৩৫ টাকাউচ্চ ক্ষমতার গাড়ি১৩০ টাকা
কেরোসিন (Kerosene)১০৫ টাকাচুলা, বাতি১০০ টাকা

পেট্রোল ও ডিজেলের দাম

পেট্রোল এবং ডিজেল বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জ্বালানি তেল। বর্তমানে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ১৩০ টাকা এবং ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা। গত কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারেও দাম বেড়েছে।

পেট্রোল প্রধানত ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল এবং ছোট গাড়ির জন্য ব্যবহৃত হয়। একটি মোটরসাইকেল গড়ে প্রতি লিটারে ৪০-৫০ কিলোমিটার এবং একটি ছোট গাড়ি ১২-১৫ কিলোমিটার যায়। ডিজেল মূলত পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, পণ্যবাহী ট্রাক এবং শিল্প কারখানার জেনারেটরে ব্যবহৃত হয়। ডিজেলের দাম বৃদ্ধি সরাসরি পরিবহন খরচ এবং পণ্যের মূল্যে প্রভাব ফেলে।

পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার এবং খরচ

যানবাহনের ধরনজ্বালানিপ্রতি লিটার মাইলেজমাসিক গড় খরচ (১০০ কিমি/দিন)
মোটরসাইকেলপেট্রোল৪০-৫০ কিমি৭,৮০০-৯,৭৫০ টাকা
ছোট গাড়ি (১০০০-১৫০০ সিসি)পেট্রোল১২-১৫ কিমি২৬,০০০-৩২,৫০০ টাকা
মাইক্রোবাসডিজেল৮-১০ কিমি৩৪,৫০০-৪৩,১২৫ টাকা
বাস/ট্রাকডিজেল৪-৬ কিমি৫৭,৫০০-৮৬,২৫০ টাকা
জেনারেটর (৫ কেভিএ)ডিজেলপ্রতি ঘণ্টায় ১-১.৫ লিটারভিন্ন (ব্যবহার অনুযায়ী)

অকটেন ও কেরোসিনের দাম

অকটেন হলো উচ্চ মানের পেট্রোল যা প্রিমিয়াম গাড়ি এবং স্পোর্টস গাড়িতে ব্যবহৃত হয়। এর অকটেন রেটিং বেশি (৯৫-৯৮) যা ইঞ্জিনে উচ্চ কর্মক্ষমতা প্রদান করে এবং ক্ষতি কমায়। বর্তমানে অকটেনের দাম প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা। সাধারণত ১৫০০ সিসির উপরের গাড়িতে অকটেন ব্যবহার করা হয়।

কেরোসিন প্রধানত গ্রামীণ এলাকায় রান্নার চুলা এবং বাতিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও কিছু শিল্পকারখানায় এবং কৃষি কাজে কেরোসিন ব্যবহৃত হয়। সরকার কেরোসিনে ভর্তুকি প্রদান করে বলে এর দাম তুলনামূলক কম—প্রতি লিটার ১০৫ টাকা। তবে অপব্যবহার রোধে কেরোসিন বিক্রয়ে কিছু নিয়ন্ত্রণ আছে।

জ্বালানি তেলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ

বৈশিষ্ট্যপেট্রোলডিজেলঅকটেনকেরোসিন
প্রতি লিটার দাম১৩০ টাকা১১৫ টাকা১৩৫ টাকা১০৫ টাকা
অকটেন রেটিং৮৭-৮৯৯৫-৯৮
প্রধান ব্যবহারমোটরসাইকেল, গাড়িবাস, ট্রাকপ্রিমিয়াম গাড়িচুলা, বাতি
দক্ষতামাঝারিউচ্চসর্বোচ্চনিম্ন
পরিবেশগত প্রভাবমাঝারিউচ্চ (ধোঁয়া)কমমাঝারি

জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের কারণসমূহ

জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর কাজ করে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) এর দাম সবচেয়ে বড় নিয়ামক। বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে জ্বালানি তেল আমদানির উপর নির্ভরশীল, তাই মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মূল্য পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলে।

দ্বিতীয়ত, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডলার শক্তিশালী হলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়, ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে। তৃতীয়ত, সরকার আরোপিত আমদানি শুল্ক, ভ্যাট এবং অন্যান্য কর দামের একটি বড় অংশ। চতুর্থত, শোধনাগার খরচ, পরিবহন এবং বিতরণ ব্যয় স্থানীয় দামে যুক্ত হয়। পঞ্চমত, সরকারি ভর্তুকি নীতি—সরকার যদি ভর্তুকি দেয় তাহলে দাম কম থাকে, ভর্তুকি কমালে দাম বাড়ে।

দাম নির্ধারণের মূল উপাদান

উপাদানপ্রভাবের হারবিবরণ
আন্তর্জাতিক ক্রুড অয়েলের দাম৫৫-৬৫%সবচেয়ে বড় নিয়ামক
ডলারের বিনিময় হার১৫-২০%টাকার দুর্বলতা দাম বাড়ায়
সরকারি কর ও শুল্ক১০-১৫%আমদানি শুল্ক, ভ্যাট
শোধনাগার ও পরিবহন৫-১০%স্থানীয় খরচ
সরকারি ভর্তুকি০-১৫%দাম কমায় বা বাড়ায়

আন্তর্জাতিক বাজার এবং স্থানীয় মূল্যের সম্পর্ক

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতিদিন পরিবর্তন হয়। ব্রেন্ট ক্রুড এবং ডব্লিউটিআই (WTI) হলো দুটি প্রধান বেঞ্চমার্ক যার উপর ভিত্তি করে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নির্ধারিত হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৭৫-৮০ ডলারের মধ্যে রয়েছে।

বাংলাদেশ মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানি করে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং ওমান প্রধান সরবরাহকারী দেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তিন থেকে চার মাসের মধ্যে স্থানীয় বাজারে প্রভাব পড়ে। এর কারণ হলো বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন কয়েক মাসের জন্য আগাম চুক্তিতে তেল কেনে।

আন্তর্জাতিক ক্রুড অয়েল মূল্যের প্রবণতা (২০২৬)

মাসব্রেন্ট ক্রুড ($/ব্যারেল)স্থানীয় প্রভাবমন্তব্য
জানুয়ারি৭৫-৮০ ডলারস্থিতিশীলমধ্যম দাম
ফেব্রুয়ারি-মার্চ৭৮-৮৫ ডলার (পূর্বাভাস)সামান্য বৃদ্ধিচাহিদা বৃদ্ধি
এপ্রিল-জুন৭২-৭৮ ডলার (পূর্বাভাস)হ্রাস সম্ভাবনাগ্রীষ্মকাল
জুলাই-সেপ্টেম্বর৮০-৮৮ ডলার (পূর্বাভাস)বৃদ্ধি সম্ভাবনাপিক সিজন

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সমাজের সকল স্তরে প্রভাব ফেলে। প্রথমত, পরিবহন খরচ বেড়ে যায়—বাস, ট্যাক্সি, সিএনজি, অটোরিকশার ভাড়া বাড়ে। দ্বিতীয়ত, পণ্য পরিবহনে খরচ বেশি হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, শাকসবজি, মাছ-মাংসের দাম বৃদ্ধি পায়। তৃতীয়ত, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ডিজেল ব্যবহারকারী জেনারেটরের খরচ বাড়ে, যা বিদ্যুৎ বিলে প্রভাব ফেলে।

চতুর্থত, কৃষি খাতে সেচ পাম্প এবং ট্রাক্টর চালাতে ডিজেল লাগে, তাই কৃষি উৎপাদন খরচ বাড়ে। পঞ্চমত, ব্যবসা-বাণিজ্যে পণ্য সরবরাহ খরচ বৃদ্ধি সামগ্রিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি তৈরি করে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়, যা মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত পরিবারের উপর সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করে।

Read More: মিনিকেট চালের দাম কত আজ? সর্বশেষ বাজারদর ও আপডেট তথ্য ২০২৬

জ্বালানি দাম বৃদ্ধির প্রভাব বিশ্লেষণ

প্রভাবিত খাতপ্রভাবের মাত্রাসরাসরি প্রভাব
পরিবহন খরচখুব উচ্চ (↑↑↑)ভাড়া বৃদ্ধি ১৫-২৫%
নিত্যপণ্যের দামউচ্চ (↑↑)মূল্য বৃদ্ধি ১০-১৫%
বিদ্যুৎ উৎপাদনমাঝারি (↑)বিল বৃদ্ধি ৫-১০%
কৃষি উৎপাদনমাঝারি (↑)খরচ বৃদ্ধি ৮-১২%
শিল্প উৎপাদনউচ্চ (↑↑)উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি
সাধারণ মানুষখুব উচ্চ (↑↑↑)জীবনযাত্রা ব্যয় বৃদ্ধি

জ্বালানি সাশ্রয়ের উপায়

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সাথে সাথে সাশ্রয়ী ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গাড়ি চালকদের জন্য কিছু কার্যকর টিপস রয়েছে যা মেনে চললে জ্বালানি খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব।

প্রথমত, সঠিক গতিতে গাড়ি চালান—৪০-৬০ কিমি/ঘণ্টা গতি সবচেয়ে সাশ্রয়ী। দ্বিতীয়ত, হঠাৎ ব্রেক এবং দ্রুত এক্সিলারেশন এড়িয়ে চলুন, এতে ২০-৩০% বেশি জ্বালানি খরচ হয়। তৃতীয়ত, নিয়মিত গাড়ির সার্ভিসিং করুন—ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন, এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার এবং টায়ারের সঠিক চাপ মাইলেজ বাড়ায়। চতুর্থত, অপ্রয়োজনীয় ওজন কমান—গাড়িতে অতিরিক্ত মালপত্র বহন করলে জ্বালানি বেশি খরচ হয়।

জ্বালানি সাশ্রয়ের কার্যকর পদ্ধতি

পদ্ধতিসাশ্রয়ের হারবিস্তারিত
সঠিক গতি বজায় রাখা১৫-২৫%৪০-৬০ কিমি/ঘণ্টা আদর্শ
মসৃণ ড্রাইভিং২০-৩০%হঠাৎ ব্রেক/এক্সিলারেশন এড়ানো
নিয়মিত সার্ভিসিং১০-১৫%ইঞ্জিন দক্ষতা বজায়
টায়ার চাপ সঠিক রাখা৫-১০%কম চাপে বেশি খরচ
এসি যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার১০-২০%অপ্রয়োজনে বন্ধ রাখা
অপ্রয়োজনীয় ওজন কমানো৫-৮%প্রতি ১০০ কেজিতে ১-২% বৃদ্ধি

পঞ্চমত, এয়ার কন্ডিশনার যুক্তিসঙ্গতভাবে ব্যবহার করুন—এসি চালু রাখলে ১০-২০% বেশি জ্বালানি খরচ হয়। ষষ্ঠত, ট্রাফিক জ্যাম এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন, প্রয়োজনে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করুন। সপ্তমত, কার্পুলিং বা গণপরিবহন ব্যবহার করুন যখন সম্ভব। অষ্টমত, অপ্রয়োজনে গাড়ি চালু রেখে দাঁড়িয়ে থাকবেন না—৩০ সেকেন্ডের বেশি থামলে ইঞ্জিন বন্ধ করুন।

সরকারি নীতি এবং ভর্তুকি

বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও সরকার তাৎক্ষণিক মূল্য সমন্বয় করে না, বরং কয়েক মাসের পর্যবেক্ষণের পর সিদ্ধান্ত নেয়।

জ্বালানি তেলে সরকারি ভর্তুকি একটি জটিল বিষয়। কখনো কখনো সরকার ভর্তুকি দিয়ে দাম কম রাখে, আবার অর্থনৈতিক চাপ কমাতে ভর্তুকি প্রত্যাহার করে। ২০২৬ সালে সরকার কেরোসিনে সীমিত ভর্তুকি প্রদান করছে গ্রামীণ জনগণের স্বার্থে। তবে পেট্রোল, ডিজেল এবং অকটেনে ভর্তুকি নেই—এগুলো বাজার মূল্যে বিক্রয় হয়।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং দামের পূর্বাভাস

২০২৬ সালের বাকি সময়ে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মিশ্র পূর্বাভাস রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম স্থিতিশীল থাকলে স্থানীয় বাজারেও বড় পরিবর্তন হবে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা, OPEC দেশগুলোর উৎপাদন নীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অবস্থা দামকে প্রভাবিত করবে।

বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়া। সরকার ইলেকট্রিক গাড়ি (EV) প্রচলনে উৎসাহ প্রদান করছে এবং সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি করছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি জ্বালানি তেলের উপর নির্ভরতা কমাতে পারে।

২০২৬ সালের দাম পূর্বাভাস

সময়কালপেট্রোলডিজেলঅকটেনসম্ভাব্য কারণ
জানুয়ারি-মার্চ১৩০-১৩৫ টাকা১১৫-১২০ টাকা১৩৫-১৪০ টাকাশীতকালীন চাহিদা
এপ্রিল-জুন১২৮-১৩২ টাকা১১২-১১৮ টাকা১৩৩-১৩৮ টাকাচাহিদা হ্রাস
জুলাই-সেপ্টেম্বর১৩২-১৩৮ টাকা১১৮-১২৪ টাকা১৩৭-১৪৩ টাকাপিক সিজন
অক্টোবর-ডিসেম্বর১৩৫-১৪২ টাকা১২০-১২৮ টাকা১৪০-১৪৮ টাকাশীত প্রস্তুতি

উপসংহার

জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। ২০২৬ সালে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন এবং কেরোসিনের বর্তমান দাম যথাক্রমে ১৩০, ১১৫, ১৩৫ এবং ১০৫ টাকা প্রতি লিটার। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং সরকারি নীতি এই দাম নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। সাধারণ জনগণের উচিত জ্বালানি সাশ্রয়ী ব্যবহার করা এবং বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহার করা। সরকারের উচিত দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া। ভোক্তাদের সচেতনতা এবং সরকারি কার্যকর নীতি মিলিয়ে জ্বালানি তেলের সঠিক ব্যবহার ও মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং সাশ্রয়ী অভ্যাস গড়ে তুলে আমরা জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি।

৫টি প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম কত ২০২৬?

২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম হলো: পেট্রোল ১৩০ টাকা প্রতি লিটার, ডিজেল ১১৫ টাকা প্রতি লিটার, অকটেন ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার এবং কেরোসিন ১০৫ টাকা প্রতি লিটার। এই দাম সারাদেশে একই রকম তবে দূরবর্তী এলাকায় পরিবহন খরচের কারণে সামান্য বেশি হতে পারে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ করে প্রতি তিন থেকে ছয় মাস পরপর মূল্য সমন্বয় করে থাকে। সর্বশেষ তথ্যের জন্য নিকটস্থ পেট্রোল পাম্প বা বিপিসির ওয়েবসাইট দেখুন।

২. পেট্রোল ও ডিজেলের মধ্যে কোনটি বেশি সাশ্রয়ী?

ডিজেল পেট্রোলের চেয়ে সাশ্রয়ী কারণ এর দাম প্রতি লিটার ১৫ টাকা কম এবং মাইলেজও বেশি। ডিজেল ইঞ্জিনের গাড়ি সাধারণত পেট্রোল ইঞ্জিনের চেয়ে ২০-৩০% বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। যেমন একটি ডিজেল গাড়ি প্রতি লিটারে ১৫-১৮ কিলোমিটার যায়, যেখানে পেট্রোল গাড়ি ১২-১৫ কিলোমিটার যায়। তবে ডিজেল গাড়ির প্রাথমিক দাম বেশি এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচও বেশি হয়। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারকারী এবং বেশি দূরত্ব অতিক্রমকারীদের জন্য ডিজেল সাশ্রয়ী, কিন্তু শহরের মধ্যে কম দূরত্বের জন্য পেট্রোল ভালো।

৩. জ্বালানি তেলের দাম কেন এত বেশি বাড়ছে?

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি। বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে জ্বালানি তেল আমদানি করে, তাই মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশে মূল্য বৃদ্ধি সরাসরি প্রভাব ফেলে। এছাড়াও মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার দুর্বলতা আমদানি ব্যয় বাড়ায়। সরকার আরোপিত আমদানি শুল্ক, ভ্যাট এবং অন্যান্য কর দামের একটি বড় অংশ। বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংকট, OPEC দেশগুলোর উৎপাদন কমানো এবং চাহিদা বৃদ্ধি—এই সবকিছু মিলে দাম বাড়ছে। সরকার ভর্তুকি কমালেও দাম বৃদ্ধির কারণ হয়।

৪. কীভাবে জ্বালানি খরচ কমানো যায়?

জ্বালানি খরচ কমাতে কয়েকটি কার্যকর পদ্ধতি আছে। প্রথমত, ৪০-৬০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে গাড়ি চালান—এই গতিতে মাইলেজ সবচেয়ে ভালো হয়। দ্বিতীয়ত, হঠাৎ ব্রেক এবং দ্রুত এক্সিলারেশন এড়িয়ে চলুন, মসৃণ ড্রাইভিং ২০-৩০% জ্বালানি সাশ্রয় করে। তৃতীয়ত, নিয়মিত গাড়ির সার্ভিসিং করুন—ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন, এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার এবং টায়ারের সঠিক চাপ বজায় রাখুন। চতুর্থত, এয়ার কন্ডিশনার অপ্রয়োজনে বন্ধ রাখুন। পঞ্চমত, কার্পুলিং বা গণপরিবহন ব্যবহার করুন। ষষ্ঠত, ট্রাফিক জ্যাম এড়িয়ে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করুন। এই অভ্যাসগুলো মেনে চললে ২৫-৪০% জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব।

৫. অকটেন এবং পেট্রোলের মধ্যে পার্থক্য কী?

অকটেন এবং পেট্রোল উভয়ই পেট্রোলিয়াম থেকে পাওয়া জ্বালানি কিন্তু তাদের অকটেন রেটিং ভিন্ন। পেট্রোলের অকটেন রেটিং ৮৭-৮৯ যেখানে অকটেনের রেটিং ৯৫-৯৮। উচ্চ অকটেন রেটিং মানে ইঞ্জিনে নকিং বা প্রি-ইগনিশন কম হয় এবং বেটার পারফরম্যান্স পাওয়া যায়। অকটেন প্রিমিয়াম এবং হাই-পারফরম্যান্স গাড়িতে ব্যবহৃত হয় যেগুলোর কম্প্রেশন রেশিও বেশি। সাধারণ মোটরসাইকেল এবং ছোট গাড়িতে পেট্রোল যথেষ্ট, কিন্তু ১৫০০ সিসির উপরের গাড়িতে অকটেন ব্যবহার করা ভালো। অকটেনের দাম প্রতি লিটার ৫ টাকা বেশি (১৩৫ টাকা) তবে এটি ইঞ্জিনের আয়ু বাড়ায় এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমায়।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *