এলপিজি গ্যাসের দাম কত ২০২৬ – সম্পূর্ণ তথ্য এবং আপডেট
বাংলাদেশে রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজি (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। শহর এবং গ্রামাঞ্চল উভয় স্থানেই এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার এখন প্রতিটি পরিবারের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। পাইপলাইন গ্যাসের তুলনায় এলপিজি বহনযোগ্য, সহজলভ্য এবং নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। তবে এলপিজি গ্যাসের দাম প্রায়শই ওঠানামা করে, যা সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেটে প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের উপর নির্ভর করে বাংলাদেশে এলপিজি গ্যাসের দাম নির্ধারিত হয়। এছাড়াও সরকারি নীতি, ডলারের বিনিময় মূল্য এবং আমদানি শুল্কও দামের উপর প্রভাব ফেলে। ২০২৬ সালে এলপিজি গ্যাসের বর্তমান দাম কত এবং কীভাবে দাম নির্ধারণ হয়, তা জানা প্রতিটি পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এলপিজি গ্যাসের দাম ২০২৬
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে এলপিজি গ্যাসের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির কারণে প্রতি মাসে দামে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানির এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম কিছুটা ভিন্ন হয়ে থাকে। বাজারে প্রচলিত প্রধান ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা এলপিজি, যমুনা গ্যাস, টোটাল গ্যাস, বেক্সিমকো এলপিজি, ওরিয়ন গ্যাস এবং আরও অনেক স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড।
সরকার প্রতি মাসে এলপিজি গ্যাসের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (BERC) মাধ্যমে। তবে বাজারে প্রকৃত মূল্য কিছুটা ভিন্ন হতে পারে বিতরণ খরচ এবং অঞ্চলভেদে। ঢাকা শহরে যে দাম, চট্টগ্রাম বা সিলেটে তার চেয়ে সামান্য বেশি বা কম হতে পারে পরিবহন খরচের কারণে।
২০২৬ সালের এলপিজি গ্যাসের বর্তমান মূল্য তালিকা
| সিলিন্ডারের আকার | ওজন | রিফিল মূল্য | নতুন সিলিন্ডার মূল্য |
|---|---|---|---|
| পারিবারিক সিলিন্ডার | ১২ কেজি | ১,৩৫০ – ১,৪৫০ টাকা | ৪,৫০০ – ৫,৫০০ টাকা |
| বাণিজ্যিক সিলিন্ডার | ৩৫ কেজি | ৩,৮০০ – ৪,২০০ টাকা | ৮,৫০০ – ৯,৫০০ টাকা |
| শিল্প সিলিন্ডার | ৪৫ কেজি | ৪,৯০০ – ৫,৪০০ টাকা | ১০,০০০ – ১২,০০০ টাকা |
১২ কেজি এলপিজি গ্যাসের দাম
বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডার হলো ১২ কেজি ওজনের। একটি মাঝারি আকারের পরিবারের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডার সাধারণত এক থেকে দেড় মাস চলে, ব্যবহারের উপর নির্ভর করে। বর্তমানে ১২ কেজি এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম প্রায় ১,৩৫০ থেকে ১,৪৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। এই দাম ব্র্যান্ড এবং এলাকাভেদে কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলোর দাম সাধারণত একটু বেশি হয়, কারণ তারা ভালো মানের গ্যাস এবং উন্নত সিলিন্ডার সরবরাহ করে থাকে। স্থানীয় ছোট ব্র্যান্ডগুলো তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করলেও মান এবং নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। ১২ কেজি সিলিন্ডার কেনার সময় রিফিল এবং নতুন সিলিন্ডারের দামে পার্থক্য থাকে। রিফিল সিলিন্ডার সাধারণত ১,৩৫০ থেকে ১,৪৫০ টাকা, আর নতুন সিলিন্ডার কিনতে অতিরিক্ত ৩,৫০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা খরচ হয় সিলিন্ডার ডিপোজিট এবং রেগুলেটর বাবদ।
১২ কেজি সিলিন্ডার কেনার খরচ বিবরণ
| খরচের বিবরণ | পরিমাণ (টাকা) |
|---|---|
| সিলিন্ডার ডিপোজিট | ২,৫০০ – ৩,০০০ |
| রেগুলেটর | ৮০০ – ১,২০০ |
| পাইপ ও ফিটিংস | ৩০০ – ৫০০ |
| প্রথম রিফিল | ১,৩৫০ – ১,৪৫০ |
| মোট প্রথম খরচ | ৪,৯৫০ – ৬,১৫০ |
আজকের এলপিজি গ্যাসের দাম কত
আজকের তারিখে অর্থাৎ ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশে এলপিজি গ্যাসের দাম নিম্নরূপ। এই দামগুলো আনুমানিক এবং বাজার পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল। প্রতিটি কোম্পানির নিজস্ব মূল্য তালিকা রয়েছে যা তারা প্রতি মাসে আপডেট করে থাকে।
আজকের বাজার মূল্য (২৫ জানুয়ারি ২০২৬)
| বিবরণ | মূল্য পরিসীমা |
|---|---|
| ১২ কেজি সিলিন্ডার (রিফিল) | ১,৩৫০ – ১,৪৫০ টাকা |
| ৩৫ কেজি সিলিন্ডার (রিফিল) | ৩,৮০০ – ৪,২০০ টাকা |
| ৪৫ কেজি সিলিন্ডার (রিফিল) | ৪,৯০০ – ৫,৪০০ টাকা |
| প্রতি কেজি গ্যাসের গড় মূল্য | ১১২ – ১২১ টাকা |
সঠিক এবং সর্বশেষ দাম জানতে আপনার নিকটস্থ এলপিজি গ্যাস ডিলার বা ডিস্ট্রিবিউটরের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। অনেক কোম্পানি এখন মোবাইল অ্যাপ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দামের তথ্য এবং হোম ডেলিভারি সেবা প্রদান করছে।
এলপিজি গ্যাসের দাম নির্ধারণের কারণসমূহ
এলপিজি গ্যাসের দাম বিভিন্ন কারণে ওঠানামা করে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল এবং এলপিজির দাম সবচেয়ে বড় নিয়ামক। বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে এলপিজি আমদানির উপর নির্ভরশীল, তাই সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করা এলপিজির মূল্যই স্থানীয় দাম নির্ধারণ করে।
দ্বিতীয়ত, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডলারের দাম বাড়লে আমদানি খরচ বেড়ে যায়, ফলে এলপিজির দামও বাড়ে। তৃতীয়ত, সরকার আরোপিত আমদানি শুল্ক, ভ্যাট এবং অন্যান্য কর দামের উপর প্রভাব ফেলে। চতুর্থত, বিতরণ এবং পরিবহন খরচ, বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকায় দাম বাড়িয়ে দেয়।
দাম নির্ধারণের মূল উপাদান
| উপাদান | প্রভাবের হার | বিবরণ |
|---|---|---|
| আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য | ৫০-৬০% | সবচেয়ে বড় নিয়ামক |
| ডলারের বিনিময় হার | ২০-২৫% | টাকার দুর্বলতা দাম বাড়ায় |
| সরকারি শুল্ক ও কর | ১৫-২০% | আমদানি শুল্ক, ভ্যাট |
| পরিবহন ও বিতরণ | ৫-১০% | দূরত্বভেদে ভিন্ন |
বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এলপিজি গ্যাসের তুলনা
বাংলাদেশে অনেকগুলো এলপিজি ব্র্যান্ড রয়েছে এবং প্রতিটির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এবং মূল্য রয়েছে। বসুন্ধরা এলপিজি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড, যা ভালো মানের গ্যাস এবং নিরাপদ সিলিন্ডার সরবরাহের জন্য পরিচিত। যমুনা গ্যাস আরেকটি বিশ্বস্ত নাম যা দীর্ঘদিন ধরে বাজারে আছে। টোটাল গ্যাস একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড যা প্রিমিয়াম কোয়ালিটির জন্য পরিচিত তবে দাম কিছুটা বেশি।
বেক্সিমকো এলপিজি এবং ওরিয়ন গ্যাস মধ্যম দামের ভালো মানের গ্যাস সরবরাহ করে। স্থানীয় অনেক ছোট ব্র্যান্ডও রয়েছে যারা কম দামে বিক্রি করে কিন্তু মান এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। গ্যাস কেনার সময় শুধু দাম নয়, ব্র্যান্ডের সুনাম, সিলিন্ডারের মান, গ্যাসের বিশুদ্ধতা এবং হোম ডেলিভারি সেবাও বিবেচনা করা উচিত।
Read More: রান্নাঘরের জন্য সেরা ইলেকট্রিক ব্লেন্ডার ও দাম ২০২৫ : সেরা ৫টি ব্লেন্ডার
জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
| ব্র্যান্ড | ১২ কেজি মূল্য | গুণমান | হোম ডেলিভারি |
|---|---|---|---|
| বসুন্ধরা এলপিজি | ১,৪০০ টাকা | ★★★★★ | হ্যাঁ |
| যমুনা গ্যাস | ১,৩৮০ টাকা | ★★★★☆ | হ্যাঁ |
| টোটাল গ্যাস | ১,৪৫০ টাকা | ★★★★★ | হ্যাঁ |
| বেক্সিমকো এলপিজি | ১,৩৭০ টাকা | ★★★★☆ | হ্যাঁ |
| ওরিয়ন গ্যাস | ১,৩৬০ টাকা | ★★★☆☆ | হ্যাঁ |
এলপিজি গ্যাস কোথায় কিনবেন?
এলপিজি গ্যাস কেনার জন্য আপনার এলাকার অথরাইজড ডিলার বা ডিস্ট্রিবিউটর থেকে কেনা সবচেয়ে নিরাপদ। প্রতিটি বড় ব্র্যান্ডের নিজস্ব ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক রয়েছে যেখানে আপনি সরাসরি সিলিন্ডার কিনতে বা রিফিল করতে পারবেন। এছাড়াও এখন অনেক কোম্পানি মোবাইল অ্যাপ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হোম ডেলিভারি সেবা দিচ্ছে।
গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয়ের স্থান
| ক্রয়ের মাধ্যম | সুবিধা | ডেলিভারি সময় | ডেলিভারি চার্জ |
|---|---|---|---|
| অথরাইজড ডিলার | সরাসরি সেবা, তাৎক্ষণিক | ১-২ ঘণ্টা | ৫০-১০০ টাকা |
| মোবাইল অ্যাপ | সুবিধাজনক, ট্র্যাকিং | ২-৪ ঘণ্টা | ৫০-১৫০ টাকা |
| ফোনে অর্ডার | সহজ প্রক্রিয়া | ৩-৬ ঘণ্টা | ৮০-১২০ টাকা |
| স্থানীয় দোকান | সহজলভ্য | তাৎক্ষণিক | বিনামূল্যে |
এই মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে আপনি ঘরে বসে গ্যাস সিলিন্ডার অর্ডার করতে পারবেন। অনলাইন পেমেন্ট সুবিধাও অনেক কোম্পানি দিচ্ছে। তবে সবসময় নিশ্চিত করুন যে আপনি অরিজিনাল এবং সিল করা সিলিন্ডার পাচ্ছেন। নকল বা ভেজাল গ্যাস সিলিন্ডার অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।
এলপিজি গ্যাস ব্যবহারে সাশ্রয়ের উপায়
এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়ার সাথে সাথে সাশ্রয়ী ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে একটি ১২ কেজি সিলিন্ডার দেড় থেকে দুই মাস পর্যন্ত চলতে পারে। নিচে কিছু কার্যকর সাশ্রয়ের উপায় দেওয়া হলো।
গ্যাস সাশ্রয়ের কার্যকর পদ্ধতি
| পদ্ধতি | সাশ্রয়ের হার | বিস্তারিত |
|---|---|---|
| ঢাকনা দিয়ে রান্না | ২০-৩০% | তাপ সংরক্ষণ হয় |
| প্রেশার কুকার ব্যবহার | ৩০-৪০% | দ্রুত রান্না সম্পন্ন হয় |
| উপযুক্ত পাত্র নির্বাচন | ১৫-২০% | শিখা পাশে না যাওয়া |
| নিয়মিত বার্নার পরিষ্কার | ১০-১৫% | সম্পূর্ণ দহন নিশ্চিত |
| রান্নার পরিকল্পনা | ১৫-২৫% | একসাথে একাধিক রান্না |
প্রথমত, সবসময় ঢাকনা দিয়ে রান্না করুন যাতে তাপ দ্রুত ছড়িয়ে না যায়। দ্বিতীয়ত, উপযুক্ত আকারের পাত্র ব্যবহার করুন যাতে শিখা পাত্রের পাশ দিয়ে বের না হয়। তৃতীয়ত, প্রেশার কুকার ব্যবহার করলে দ্রুত রান্না হয় এবং গ্যাস সাশ্রয় হয়। নিয়মিত চুলার বার্নার পরিষ্কার রাখুন যাতে গ্যাস সম্পূর্ণভাবে জ্বলে। রান্না শেষে সবসময় সিলিন্ডারের ভালভ বন্ধ রাখুন। একসাথে একাধিক খাবার রান্না করার পরিকল্পনা করলে গ্যাস সাশ্রয় হয়।
এলপিজি গ্যাস ব্যবহারে নিরাপত্তা
এলপিজি গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য এবং বিস্ফোরক, তাই ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন। প্রতি বছর অসাবধানতার কারণে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। নিচের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চললে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
গ্যাস ব্যবহারে নিরাপত্তা চেকলিস্ট
| নিরাপত্তা বিষয় | করণীয় | বর্জনীয় |
|---|---|---|
| সিলিন্ডার স্থাপন | ছায়াযুক্ত স্থানে, সোজা রাখা | সূর্যের আলোয়, শোয়ানো অবস্থায় |
| লিক পরীক্ষা | সাবান পানি ব্যবহার | দিয়াশলাই বা লাইটার |
| গ্যাস জ্বালানো | ম্যাচ আগে, তারপর ভালভ | ভালভ আগে, তারপর ম্যাচ |
| রক্ষণাবেক্ষণ | বছরে দুইবার সার্ভিসিং | পুরনো পাইপ ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া |
| জরুরি অবস্থা | ভালভ বন্ধ, জানালা খোলা | প্যানিক, সুইচ চালু করা |
সিলিন্ডার সবসময় ছায়াযুক্ত এবং বায়ুচলাচল আছে এমন স্থানে রাখুন। সরাসরি সূর্যের আলো বা তাপের উৎসের কাছে রাখবেন না। গ্যাসের গন্ধ পেলে অবিলম্বে সিলিন্ডারের ভালভ বন্ধ করুন এবং জানালা-দরজা খুলে দিন। রেগুলেটর এবং পাইপ নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং ছিঁড়ে গেলে বা পুরনো হলে পরিবর্তন করুন। সিলিন্ডার শোয়ানো অবস্থায় বা উল্টিয়ে রাখবেন না, সবসময় সোজা রাখুন।
সরকারি নীতি এবং ভর্তুকি
বাংলাদেশ সরকার এলপিজি গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) প্রতি মাসে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে যাতে অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা যায়। তবে এলপিজিতে সরাসরি কোনো সরকারি ভর্তুকি নেই, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সাথে সাথে স্থানীয় দামও পরিবর্তিত হয়।
মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া
| পর্যায় | দায়িত্বশীল সংস্থা | সময়কাল |
|---|---|---|
| আন্তর্জাতিক মূল্য পর্যালোচনা | BERC | মাসিক |
| স্থানীয় খরচ বিশ্লেষণ | আমদানিকারক সমিতি | মাসিক |
| চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ | শক্তি বিভাগ | মাসিক |
| বাস্তবায়ন | সকল বিতরণকারী | তৎক্ষণাৎ |
সরকার পাইপলাইন গ্যাসে ভর্তুকি দিলেও এলপিজি সম্পূর্ণ বাজার নির্ভর। তবে সরকার চাইলে আমদানি শুল্ক কমিয়ে দাম হ্রাসে ভূমিকা রাখতে পারে। ২০২৬ সালে সরকার এলপিজি খাতে আরো প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে যাতে ভোক্তারা ভালো দামে গ্যাস পান।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং দামের পূর্বাভাস
২০২৬ সালের বাকি সময়ে এলপিজি গ্যাসের দাম কিছুটা বাড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে। মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক তেল উৎপাদন নীতি এলপিজির দামকে প্রভাবিত করবে। তবে বাংলাদেশে এলপিজির চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আরো কোম্পানিকে বাজারে আনছে এবং প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে।
২০২৬ সালের মূল্য পূর্বাভাস
| মাস | আনুমানিক মূল্য (১২ কেজি) | প্রভাবক কারণ |
|---|---|---|
| জানুয়ারি | ১,৩৫০ – ১,৪৫০ টাকা | স্থিতিশীল বাজার |
| ফেব্রুয়ারি-মার্চ | ১,৪০০ – ১,৫০০ টাকা | শীতকালীন চাহিদা |
| এপ্রিল-জুন | ১,৩০০ – ১,৪০০ টাকা | চাহিদা হ্রাস |
| জুলাই-সেপ্টেম্বর | ১,৪৫০ – ১,৫৫০ টাকা | বর্ষাকাল, পরিবহন খরচ |
| অক্টোবর-ডিসেম্বর | ১,৫০০ – ১,৬০০ টাকা | শীতকালীন প্রস্তুতি |
দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বৈদ্যুতিক রান্নার চুলার জনপ্রিয়তা বাড়লে এলপিজির উপর চাপ কমতে পারে। তবে আগামী কয়েক বছর এলপিজি প্রধান রান্নার জ্বালানি হিসেবে থাকবে। ভোক্তাদের উচিত দামের তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং সাশ্রয়ী ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা।
উপসংহার
এলপিজি গ্যাসের দাম বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০২৬ সালে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১,৩৫০ থেকে ১,৪৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারের উপর নির্ভরশীল। সঠিক ব্র্যান্ড নির্বাচন, নিরাপদ ব্যবহার এবং সাশ্রয়ী রান্নার অভ্যাস এলপিজি খরচ কমাতে সাহায্য করে। বসুন্ধরা এলপিজি, যমুনা গ্যাস, টোটাল গ্যাসের মতো বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড থেকে কিনলে মান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। সরকারি নীতি এবং বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ভোক্তারা সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সর্বশেষ দামের তথ্যের জন্য অথরাইজড ডিলার এবং কোম্পানির অনলাইন সেবার সাথে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে ভালো। এলপিজি গ্যাস ব্যবহারে সবসময় নিরাপত্তা প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
৫টি প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. এলপিজি গ্যাসের দাম কত ২০২৬?
২০২৬ সালে বাংলাদেশে ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১,৩৫০ থেকে ১,৪৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। ব্র্যান্ড এবং এলাকাভেদে দামে সামান্য পার্থক্য হতে পারে। ৩৫ কেজি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ৩,৮০০ থেকে ৪,২০০ টাকা এবং ৪৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৪,৯০০ থেকে ৫,৪০০ টাকা। প্রতি কেজি গ্যাসের গড় মূল্য ১১২ থেকে ১২১ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের উপর নির্ভর করে এই দাম প্রতি মাসে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। সঠিক দাম জানতে স্থানীয় অথরাইজড ডিলারের সাথে যোগাযোগ করা উত্তম।
২. ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস কতদিন চলে?
একটি ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ দিন চলে, যা নির্ভর করে পরিবারের সদস্য সংখ্যা এবং রান্নার পরিমাণের উপর। চার সদস্যের একটি পরিবারে দৈনিক তিনবেলা রান্না করলে গড়ে ৩৫-৪০ দিন চলে। যদি সাশ্রয়ী পদ্ধতি অনুসরণ করেন যেমন ঢাকনা দিয়ে রান্না, প্রেশার কুকার ব্যবহার এবং সঠিক আকারের পাত্র ব্যবহার করেন তাহলে ৫০-৬০ দিন পর্যন্ত চলতে পারে। নিয়মিত বার্নার পরিষ্কার রাখলে এবং গ্যাসের অপচয় রোধ করলে সিলিন্ডার বেশি দিন স্থায়ী হয়।
৩. কোন ব্র্যান্ডের এলপিজি গ্যাস সবচেয়ে ভালো?
বাংলাদেশে বসুন্ধরা এলপিজি, যমুনা গ্যাস এবং টোটাল গ্যাস সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। বসুন্ধরা এলপিজি এবং টোটাল গ্যাস প্রিমিয়াম মানের গ্যাস সরবরাহ করে তবে দাম কিছুটা বেশি (১,৪০০-১,৪৫০ টাকা)। যমুনা গ্যাস দীর্ঘদিন ধরে বাজারে আছে এবং ভালো সেবা প্রদান করে, দাম তুলনামূলক কম (১,৩৮০ টাকা)। বেক্সিমকো এলপিজি এবং ওরিয়ন গ্যাসও মধ্যম মানের ব্র্যান্ড। ভালো ব্র্যান্ড নির্বাচনের সময় শুধু দাম নয়, সিলিন্ডারের নিরাপত্তা, গ্যাসের বিশুদ্ধতা এবং হোম ডেলিভারি সেবা বিবেচনা করা উচিত।
৪. এলপিজি গ্যাসের দাম কেন বাড়ে-কমে?
এলপিজি গ্যাসের দাম মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের উপর নির্ভর করে। বাংলাদেশ সম্পূর্ণ এলপিজি আমদানি করে, তাই সৌদি আরব, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি মূল্য বাড়লে স্থানীয় দামও বাড়ে। এছাড়াও ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার একটি বড় কারণ—ডলার শক্তিশালী হলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। সরকারি আমদানি শুল্ক, ভ্যাট এবং পরিবহন খরচও দামের উপর প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যালোচনা করে এবং সেই অনুযায়ী স্থানীয় দাম নির্ধারণ করে।
৫. এলপিজি গ্যাস ব্যবহারে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত?
এলপিজি গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য তাই নিরাপত্তা অত্যন্ত জরুরি। সিলিন্ডার সবসময় ছায়াযুক্ত, বায়ুচলাচল আছে এমন স্থানে এবং সোজা অবস্থায় রাখুন। সূর্যের সরাসরি আলো বা তাপের উৎসের কাছে রাখবেন না। গ্যাসের গন্ধ পেলে অবিলম্বে ভালভ বন্ধ করুন, জানালা খুলে দিন এবং কোনো বৈদ্যুতিক সুইচ স্পর্শ করবেন না। লিক পরীক্ষার জন্য সাবান পানি ব্যবহার করুন, কখনো দিয়াশলাই বা লাইটার ব্যবহার করবেন না। রেগুলেটর এবং পাইপ নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং পুরনো হলে পরিবর্তন করুন। ছোট শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন এবং গ্যাস জ্বালানোর সময় আগে ম্যাচ জ্বালিয়ে তারপর ভালভ খুলুন।
Read More: খালি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম কত টাকা বাংলাদেশে ২০২৫






