আজকের রূপার দাম কত ২০২৬ – সর্বশেষ বাজারদর ও বিনিয়োগ গাইড
বাংলাদেশে রূপা একটি জনপ্রিয় মূল্যবান ধাতু যা অলংকার তৈরি এবং বিনিয়োগ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। সোনার তুলনায় রূপার দাম অনেক কম হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ রূপার অলংকার পছন্দ করেন। বিশেষ করে বিয়ে, পূজা-পার্বণ এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে রূপার গহনার চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া রূপা একটি লাভজনক বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবেও পরিচিত। আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি শুল্ক এবং স্থানীয় চাহিদা-সরবরাহের ভিত্তিতে রূপার দাম প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশে রূপা সাধারণত তোলা, ভরি, গ্রাম এবং আনা হিসেবে বিক্রি হয়। বাজুস (বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি) প্রতিদিন রূপার দাম নির্ধারণ করে থাকে। ২০২৬ সালে রূপার দাম বিভিন্ন কারণে ওঠানামা করছে। এই নিবন্ধে আজকের রূপার সর্বশেষ দাম, বিভিন্ন ধরনের রূপার তুলনা, মান যাচাই পদ্ধতি, ক্রয়-বিক্রয় টিপস এবং বিনিয়োগ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
আজকের রূপার দাম ২০২৬ (সর্বশেষ আপডেট)
বাংলাদেশে রূপার দাম প্রতিদিন আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে নির্ধারণ করা হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে রূপার দাম নিম্নরূপ:
আজকের রূপার বাজারদর (প্রতি ভরি)
- ২২ ক্যারেট রূপা: ১,৪৫০ – ১,৫২০ টাকা
- ২১ ক্যারেট রূপা: ১,৩৮০ – ১,৪৫০ টাকা
- স্ট্যান্ডার্ড রূপা (৯৯.৯%): ১,৫০০ – ১,৫৮০ টাকা
- পুরাতন রূপা: ১,৩২০ – ১,৪০০ টাকা
বিভিন্ন পরিমাপে রূপার দাম
- প্রতি গ্রাম: ১২৫ – ১৩৫ টাকা
- প্রতি তোলা: ১,৪৫৮ – ১,৫৭৫ টাকা
- প্রতি আনা: ৯১ – ৯৮.৪ টাকা
- প্রতি কেজি: ১,২৫,০০০ – ১,৩৫,০০০ টাকা
দ্রষ্টব্য: রূপার দাম প্রতিদিন পরিবর্তিত হয় এবং এলাকা ভেদে ১০-৫০ টাকা তারতম্য হতে পারে। ঢাকার চাঁদনী চক, নিউমার্কেট এবং বাংলাবাজারে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক দাম পাওয়া যায়।
Read More: নতুন সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তালিকা: সম্পূর্ণ গাইড
রূপার দাম নির্ধারণে প্রভাবশালী কারণসমূহ
রূপার দাম বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কারণে প্রভাবিত হয়।
১. আন্তর্জাতিক বাজার
আন্তর্জাতিক রূপার বাজার বাংলাদেশের দামের প্রধান নিয়ন্ত্রক। লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জ (LME) এবং নিউইয়র্ক কমেক্স বাজারে রূপার মূল্য নির্ধারিত হয়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে রূপার দাম প্রতি আউন্স ২৮-৩২ মার্কিন ডলার।
২. ডলারের বিনিময় হার
বাংলাদেশ রূপা আমদানি করে থাকে, তাই ডলারের বিনিময় হার সরাসরি দামকে প্রভাবিত করে। ২০২৬ সালে টাকার বিপরীতে ডলার শক্তিশালী থাকায় রূপার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ১ ডলার = ১২০-১২৩ টাকা।
৩. চাহিদা ও সরবরাহ
বিয়ের সিজন (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি), ঈদ, পূজা এবং অন্যান্য উৎসবে রূপার চাহিদা বাড়ে যা দাম বৃদ্ধি করে। গ্রীষ্মকালে সাধারণত চাহিদা কম থাকায় দাম কিছুটা কমে।
৪. আমদানি শুল্ক ও কর
সরকার রূপা আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট আরোপ করে যা দামে যুক্ত হয়। বর্তমানে রূপায় ৫% আমদানি শুল্ক এবং ১৫% ভ্যাট প্রযোজ্য।
৫. তৈরি খরচ
রূপা থেকে অলংকার তৈরিতে কারিগরি খরচ, ডিজাইন এবং পাথর যুক্ত হলে অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হয়। তৈরি খরচ সাধারণত প্রতি ভরি ২০০-৮০০ টাকা।
রূপার প্রকারভেদ এবং মান
বাংলাদেশে বিভিন্ন মানের রূপা পাওয়া যায় যার মান ক্যারেট এবং বিশুদ্ধতার শতাংশ দিয়ে নির্ধারিত হয়।
১. ৯৯.৯% বিশুদ্ধ রূপা (Fine Silver)
এটি সবচেয়ে বিশুদ্ধ রূপা যাতে ৯৯.৯% রূপা এবং ০.১% অন্যান্য ধাতু থাকে। এটি অত্যন্ত নরম এবং সাধারণত বিনিয়োগের জন্য বার বা কয়েন আকারে বিক্রি হয়। অলংকার তৈরিতে খুব কম ব্যবহৃত হয় কারণ এটি সহজে বাঁকে এবং আঁচড় পড়ে।
২. স্টার্লিং সিলভার (৯২.৫%)
স্টার্লিং সিলভারে ৯২.৫% রূপা এবং ৭.৫% তামা বা অন্যান্য ধাতু মেশানো থাকে। এটি অলংকার তৈরির জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় কারণ এটি যথেষ্ট শক্ত এবং টেকসই। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী “৯২৫” চিহ্ন থাকে।
৩. ২২ ক্যারেট রূপা
এতে প্রায় ৯১.৬% রূপা থাকে এবং বাংলাদেশে এটি সবচেয়ে প্রচলিত। বেশিরভাগ স্বর্ণালয়ে এই মানের রূপা বিক্রি হয়।
৪. ২১ ক্যারেট রূপা
এতে প্রায় ৮৭.৫% রূপা থাকে। কম দামে পাওয়া যায় কিন্তু কম বিশুদ্ধ।
৫. কয়েন সিলভার (৯০%)
পুরাতন মুদ্রা তৈরিতে ব্যবহৃত হতো। ৯০% রূপা এবং ১০% তামা থাকে।
রূপার মান তুলনা সারণি
| মানের ধরন | বিশুদ্ধতা | চিহ্ন | ব্যবহার | দাম (প্রতি ভরি) |
|---|---|---|---|---|
| Fine Silver | ৯৯.৯% | .999 | বিনিয়োগ, বার | ১,৫০০-১,৫৮০ টাকা |
| Sterling | ৯২.৫% | .925 | অলংকার | ১,৪২০-১,৫০০ টাকা |
| ২২ ক্যারেট | ৯১.৬% | ২২K | অলংকার | ১,৪৫০-১,৫২০ টাকা |
| ২১ ক্যারেট | ৮৭.৫% | ২১K | সাধারণ অলংকার | ১,৩৮০-১,৪৫০ টাকা |
| Coin Silver | ৯০% | .900 | পুরাতন কয়েন | ১,৩৫০-১,৪২০ টাকা |
রূপার অলংকারের ধরন এবং দাম
বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের রূপার অলংকার জনপ্রিয়।
১. রূপার হার ও চেইন
মহিলাদের জন্য রূপার হার অত্যন্ত জনপ্রিয়। সাধারণ চেইন ৫-২০ গ্রাম ওজনের হয় এবং দাম ৭০০-৩,০০০ টাকা। ডিজাইনার হার ৫০-১০০ গ্রাম হতে পারে যার দাম ৭,০০০-১৫,০০০ টাকা।
২. রূপার কানের দুল
ছোট দুল ৩-৮ গ্রাম (৪০০-১,২০০ টাকা) এবং বড় ঝুমকা দুল ১৫-৩০ গ্রাম (২,০০০-৪,৫০০ টাকা) হয়।
৩. রূপার আংটি
সাধারণ আংটি ৫-১০ গ্রাম (৬০০-১,৫০০ টাকা) এবং পাথর বসানো আংটি ১,৫০০-৫,০০০ টাকা।
৪. রূপার বালা ও চুড়ি
এক জোড়া বালা ৫০-১০০ গ্রাম (৬,০০০-১৪,০০০ টাকা) এবং সেট চুড়ি ৩০-৬০ গ্রাম (৪,০০০-৮,৫০০ টাকা)।
৫. রূপার পায়েল ও নূপুর
ঐতিহ্যবাহী পায়েল এক জোড়া ১০০-২০০ গ্রাম হয় এবং দাম ১৩,০০০-২৮,০০০ টাকা।
৬. রূপার থালা-বাটি (তৈজসপত্র)
রূপার থালা ২০০-৫০০ গ্রাম (২৬,০০০-৬৮,০০০ টাকা) এবং গ্লাস ৫০-১০০ গ্রাম (৬,৫০০-১৪,০০০ টাকা)।
রূপা ক্রয়ের সময় সতর্কতা ও মান যাচাই
রূপা কেনার সময় প্রতারণার শিকার না হতে কিছু বিষয় মনে রাখা উচিত।
মান যাচাইয়ের পদ্ধতি
১. হলমার্ক চেক করুন
বিশ্বস্ত স্বর্ণালয় থেকে কেনা রূপায় হলমার্ক বা মান চিহ্ন থাকে। .925, .999, বা 22K চিহ্ন দেখুন।
২. চুম্বক পরীক্ষা
খাঁটি রূপা চুম্বকীয় নয়। চুম্বক দিয়ে পরীক্ষা করলে আকৃষ্ট হবে না। আকৃষ্ট হলে বুঝবেন অন্য ধাতু মিশ্রিত।
৩. শব্দ পরীক্ষা
খাঁটি রূপা শক্ত পৃষ্ঠে ফেললে একটি স্বচ্ছ ঘন্টার মতো শব্দ করে। নকল রূপা নিস্তেজ শব্দ করে।
৪. রাসায়নিক পরীক্ষা
নাইট্রিক এসিড পরীক্ষা করলে খাঁটি রূপা সাদা রঙের হয় এবং নকল সবুজ বা কালো হয়। তবে এটি বিশেষজ্ঞ দিয়ে করান।
৫. রঙ ও চকচকে
খাঁটি রূপা উজ্জ্বল সাদা চকচকে হয়। অক্সিডাইজড রূপা কালচে হলে পলিশ করলে সাদা হবে।
৬. ওজন পরীক্ষা
রূপা বেশ ভারী ধাতু। হালকা মনে হলে ফাঁপা বা মিশ্রিত হতে পারে।
ক্রয়ের সময় যা করবেন
- বিজিএসটিটিএল (BSTTL) সার্টিফাইড স্বর্ণালয় থেকে কিনুন
- রসিদ অবশ্যই নিন যেখানে ওজন, মান এবং দাম স্পষ্ট লেখা থাকে
- বিখ্যাত ও পুরাতন স্বর্ণালয় থেকে কিনুন
- ওজন নিজে যন্ত্রে দেখে নিন
- তৈরি খরচ আলাদাভাবে হিসাব করান
- প্রয়োজনে বাজুসে যাচাই করান
যেসব স্বর্ণালয় বিশ্বস্ত
- আলমাস (চাঁদনী চক)
- অরণ্য (নিউমার্কেট)
- পান্না (বাংলাবাজার)
- কাজল (যমুনা ফিউচার পার্ক)
- সোনালী (মিরপুর)
রূপা বিক্রয় ও বিনিময়
পুরাতন রূপা বিক্রয় করার সময় কিছু বিষয় জানা প্রয়োজন।
পুরাতন রূপার দাম
পুরাতন রূপার দাম নতুন রূপার চেয়ে প্রতি ভরি ১০০-১৫০ টাকা কম হয়। বর্তমানে পুরাতন রূপা ১,৩২০-১,৪০০ টাকা প্রতি ভরি।
বিক্রয়ের টিপস
- একাধিক স্বর্ণালয়ে দাম জানুন
- সকাল বেলা স্বর্ণালয়ে যান যখন দাম নির্ধারিত হয়
- ভাঙা বা নষ্ট অলংকার মেরামত করে বিক্রয় করবেন না, কাঁচা দামেই ভালো দাম পাবেন
- ওজন সঠিকভাবে মাপুন
- যে স্বর্ণালয় থেকে কিনেছিলেন সেখানে বিক্রয় করলে ভালো দাম পান
বিনিময় প্রথা
অনেক স্বর্ণালয়ে পুরাতন রূপার বদলে নতুন রূপা কেনার সুবিধা আছে। এক্ষেত্রে পুরাতনটির ওজন অনুযায়ী দাম কেটে শুধু তৈরি খরচ ও ওজন পার্থক্যের টাকা দিতে হয়।
রূপায় বিনিয়োগ: লাভজনক কি না?
রূপা একটি জনপ্রিয় বিনিয়োগ মাধ্যম কিন্তু এর সুবিধা-অসুবিধা আছে।
সুবিধাসমূহ
১. সাশ্রয়ী বিনিয়োগ
সোনার তুলনায় রূপা অনেক সস্তা তাই ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য উপযুক্ত।
২. মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা
দীর্ঘমেয়াদে রূপার দাম বৃদ্ধি পায়। গত ৫ বছরে রূপার দাম ৬০-৮০% বৃদ্ধি পেয়েছে।
৩. তারল্য
রূপা সহজে ক্রয়-বিক্রয় করা যায়। যেকোনো সময় নগদে রূপান্তরিত করা সম্ভব।
৪. মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা
মুদ্রার মূল্য কমলেও রূপার মূল্য সাধারণত বৃদ্ধি পায়।
৫. শিল্প ব্যবহার
ইলেকট্রনিক্স, সৌরশক্তি প্যানেল এবং চিকিৎসায় রূপার চাহিদা বাড়ছে।
অসুবিধাসমূহ
১. অস্থিরতা
রূপার দাম সোনার চেয়ে বেশি ওঠানামা করে। স্বল্পমেয়াদে লোকসান হতে পারে।
২. সংরক্ষণ খরচ
রূপা জারিত হয় এবং কালো হয়ে যায়। নিরাপদে সংরক্ষণের খরচ আছে।
৩. তৈরি খরচ
অলংকার কিনলে তৈরি খরচ যুক্ত হয় যা বিক্রয়ের সময় পাওয়া যায় না।
৪. কর ও ভ্যাট
ক্রয়ের সময় ১৫% ভ্যাট দিতে হয়।
বিনিয়োগের সেরা পদ্ধতি
১. রূপার বার/ইনগট
অলংকারের বদলে খাঁটি রূপার বার কিনুন যাতে তৈরি খরচ নেই। ১০ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত বার পাওয়া যায়।
২. রূপার কয়েন
সরকার অনুমোদিত রূপার কয়েন বিনিয়োগের জন্য ভালো। ১ তোলা, ১০ গ্রাম কয়েন পাওয়া যায়।
৩. ডিজিটাল সিলভার
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল রূপা কেনা যায় যেখানে সংরক্ষণের ঝামেলা নেই।
বিনিয়োগ কৌশল
- দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করুন (৩-৫ বছর)
- দাম কমে গেলে কিনুন (গ্রীষ্মকাল ভালো সময়)
- মোট সম্পদের ৫-১০% রূপায় রাখুন
- নিয়মিত ছোট পরিমাণ কিনুন (SIP পদ্ধতি)
রূপা বনাম সোনা বনাম প্ল্যাটিনাম তুলনা
| বৈশিষ্ট্য | রূপা | সোনা | প্ল্যাটিনাম |
|---|---|---|---|
| প্রতি ভরি দাম | ১,৪৫০-১,৫২০ টাকা | ১,১৫,০০০-১,২০,০০০ টাকা | ৮৫,০০০-৯০,০০০ টাকা |
| সাশ্রয়ী | ★★★★★ | ★☆☆☆☆ | ★★☆☆☆ |
| বিনিয়োগ স্থিতিশীলতা | ★★★☆☆ | ★★★★★ | ★★★★☆ |
| অস্থিরতা | উচ্চ | মাঝারি | মাঝারি |
| শিল্প ব্যবহার | ব্যাপক | সীমিত | ব্যাপক |
| সংরক্ষণ | কঠিন (জারিত হয়) | সহজ | সহজ |
| তারল্য | ★★★★☆ | ★★★★★ | ★★★☆☆ |
| মুদ্রাস্ফীতি সুরক্ষা | ভালো | চমৎকার | ভালো |
রূপার দাম: অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রবণতা
গত ৫ বছরের দাম পরিবর্তন
- ২০২১: ৯০০-১,০০০ টাকা প্রতি ভরি
- ২০২২: ১,০৫০-১,১৫০ টাকা প্রতি ভরি
- ২০২৩: ১,২০০-১,৩০০ টাকা প্রতি ভরি
- ২০২৪: ১,৩৫০-১,৪২০ টাকা প্রতি ভরি
- ২০২৫: ১,৪২০-১,৫০০ টাকা প্রতি ভরি
- ২০২৬: ১,৪৫০-১,৫৮০ টাকা প্রতি ভরি
২০২৬ সালে দাম বৃদ্ধির কারণ
- আন্তর্জাতিক বাজারে রূপার চাহিদা বৃদ্ধি
- সৌরশক্তি প্যানেলে রূপার ব্যবহার বাড়ছে
- ডলারের মূল্য বৃদ্ধি
- চীন ও ভারতে চাহিদা বৃদ্ধি
- খনি থেকে উৎপাদন কমছে
ভবিষ্যৎ প্রজেকশন
বিশেষজ্ঞদের মতে ২০২৬ সালের শেষে রূপার দাম ১,৬০০-১,৭৫০ টাকা প্রতি ভরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে (৫ বছর) দাম দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
Read More: ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কত Today ২০২৫: ভরি ও গ্রামে সোনার রেট
অনলাইনে রূপা ক্রয়
আধুনিক যুগে অনলাইনেও রূপা কেনা যায়।
জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম
- Daraz Bangladesh: বিভিন্ন ডিজাইনের রূপার অলংকার
- Ajkerdeal: রূপার বার ও কয়েন
- Pickaboo: সার্টিফাইড রূপা
- Facebook Marketplace: স্থানীয় বিক্রেতা
অনলাইন ক্রয়ের সুবিধা
- ঘরে বসে তুলনা করা যায়
- ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা
- ছাড় ও অফার পাওয়া যায়
- বিস্তৃত সংগ্রহ
সতর্কতা
- শুধু বিশ্বস্ত বিক্রেতা থেকে কিনুন
- সার্টিফিকেট চেক করুন
- রিভিউ ও রেটিং দেখুন
- ডেলিভারির সময় যাচাই করুন
- রিটার্ন পলিসি দেখুন
রূপার যত্ন ও সংরক্ষণ
রূপা দীর্ঘস্থায়ী রাখতে সঠিক যত্ন প্রয়োজন।
রূপা কালো হওয়ার কারণ
রূপা বাতাসের সালফার ও আর্দ্রতার সংস্পর্শে এসে অক্সিডাইজড হয়ে কালো হয়। এটি স্বাভাবিক এবং খাঁটি রূপার লক্ষণ।
পরিষ্কার করার পদ্ধতি
১. সাবান-পানি পদ্ধতি
হালকা ডিশ সাবান ও গরম পানিতে নরম ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করুন।
২. বেকিং সোডা পদ্ধতি
অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, গরম পানি ও বেকিং সোডা মিশিয়ে রূপা ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। কালো দাগ উঠে যাবে।
৩. টুথপেস্ট পদ্ধতি
সাদা টুথপেস্ট দিয়ে নরম কাপড়ে ঘষুন।
৪. রূপা পলিশ
বাজারে রূপা পলিশ লিকুইড পাওয়া যায় (১৫০-৩০০ টাকা) যা খুবই কার্যকর।
সংরক্ষণের টিপস
- এয়ারটাইট ব্যাগ বা বক্সে রাখুন
- সিলিকা জেল প্যাকেট সাথে রাখুন
- চক রাখলে আর্দ্রতা শোষণ করে
- প্রতিটি অলংকার আলাদা রাখুন যাতে আঁচড় না লাগে
- পারফিউম, হেয়ার স্প্রে লাগানোর আগে খুলে রাখুন
- গোসল, সাঁতার বা রান্নার সময় খুলে রাখুন
FAQ’s:
১. আজ রূপার দাম কত টাকা?
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট রূপার দাম প্রতি ভরি ১,৪৫০-১,৫২০ টাকা, প্রতি গ্রাম ১২৫-১৩৫ টাকা। স্ট্যান্ডার্ড বিশুদ্ধ রূপা (৯৯.৯%) ১,৫০০-১,৫৮০ টাকা প্রতি ভরি এবং পুরাতন রূপা ১,৩২০-১,৪০০ টাকা প্রতি ভরি। এলাকাভেদে ১০-৫০ টাকা তারতম্য হতে পারে।
২. রূপা কেনার সবচেয়ে ভালো সময় কখন?
গ্রীষ্মকাল (এপ্রিল-আগস্ট) রূপা কেনার সেরা সময় কারণ এসময় বিয়ের সিজন না থাকায় চাহিদা কম এবং দাম তুলনামূলক কম থাকে। বিশেষ করে জুলাই-আগস্টে দাম সর্বনিম্ন হয়। এছাড়া বিভিন্ন উৎসব সেল (ঈদ অফার, নববর্ষ অফার) এ ১০-১৫% ছাড় পাওয়া যায়।
৩. খাঁটি রূপা কীভাবে চিনবো?
খাঁটি রূপা চেনার উপায়: (১) হলমার্ক বা .925, .999, 22K চিহ্ন দেখুন (২) চুম্বক পরীক্ষা করুন – খাঁটি রূপা চুম্বকে আকৃষ্ট হয় না (৩) শক্ত পৃষ্ঠে ফেলে ঘন্টার মতো স্বচ্ছ শব্দ শুনুন (৪) উজ্জ্বল সাদা চকচকে রঙ দেখুন (৫) ভারী ওজন অনুভব করুন (৬) বিশ্বস্ত স্বর্ণালয় থেকে সার্টিফিকেট সহ কিনুন।
৪. রূপা বিনিয়োগ কি লাভজনক?
রূপা দীর্ঘমেয়াদি (৩-৫ বছর) বিনিয়োগের জন্য লাভজনক। গত ৫ বছরে রূপার দাম ৬০-৮০% বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে স্বল্পমেয়াদে দাম ওঠানামা করে। সেরা পদ্ধতি হলো রূপার বার বা কয়েন কেনা যাতে তৈরি খরচ নেই। মোট সম্পদের ৫-১০% রূপায় রাখা উচিত। সোনার তুলনায় রূপা সস্তা তাই ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য আদর্শ।
৫. রূপা কালো হলে কী করবো?
রূপা কালো হওয়া স্বাভাবিক এবং এটি খাঁটির লক্ষণ। পরিষ্কার করার সহজ উপায়: (১) বেকিং সোডা ও গরম পানিতে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে রূপা ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন (২) সাদা টুথপেস্ট দিয়ে নরম কাপড়ে ঘষুন (৩) রূপা পলিশ লিকুইড ব্যবহার করুন (৪) পরবর্তীতে এয়ারটাইট ব্যাগে সংরক্ষণ করুন। কঠোর রাসায়নিক ব্যবহার করবেন না।
উপসংহার
রূপা বাংলাদেশের জনপ্রিয় মূল্যবান ধাতু যা অলংকার এবং বিনিয়োগ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। ২০২৬ সালে রূপার দাম প্রতি ভরি ১,৪৫০-১,৫৮০ টাকা যা আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের বিনিময় হার এবং চাহিদা-সরবরাহের ভিত্তিতে পরিবর্তিত হয়। সোনার তুলনায় রূপা অনেক সাশ্রয়ী এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য উপযুক্ত। রূপা কেনার সময় হলমার্ক যাচাই, বিশ্বস্ত স্বর্ণালয় নির্বাচন এবং সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগের জন্য রূপার বার বা কয়েন ক্রয় করা ভালো কারণ এতে তৈরি খরচ নেই। দীর্ঘমেয়াদে রূপার দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রবল বিশেষ করে সৌরশক্তি এবং ইলেকট্রনিক্স শিল্পে এর ব্যবহার বাড়ছে।
তবে সঠিক সংরক্ষণ ও যত্ন প্রয়োজন যাতে রূপা কালো না হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। রূপার দাম প্রতিদিন পরিবর্তিত হয় তাই ক্রয়ের আগে বর্তমান বাজারদর জেনে নেওয়া উচিত। সামগ্রিকভাবে রূপা একটি নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগ মাধ্যম যা সঠিক জ্ঞান ও পরিকল্পনা সহ ক্রয়-বিক্রয় করলে ভালো রিটার্ন পাওয়া সম্ভব।






